সই জাল কাণ্ডে বাড়ছে চাপ, ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে সিআইডি; তদন্তে নতুন মোড়

সই জাল কাণ্ডে বাড়ছে চাপ, ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে সিআইডি; তদন্তে নতুন মোড়

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



কলকাতা – বিধানসভার সই জাল কাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। এই ঘটনায় তদন্ত এগোতে থাকায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তিও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। তদন্তের স্বার্থে বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা বন্দরের বিধায়ক তথা কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিমের চেতলার বাসভবনে পৌঁছান রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডির আধিকারিকরা। যদিও তাঁদের এই সফর এবং সম্ভাব্য জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ঘটনার সূত্রপাত সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের পর। নির্বাচনে প্রত্যাশার তুলনায় খারাপ ফল করে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠি পাঠান তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে ওই চিঠিকে ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। তৃণমূলের দুই বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেন, চিঠিতে তাঁদের নামে যে স্বাক্ষর রয়েছে তা জাল করা হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে সরাসরি বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানান। এরপর বিধানসভার সচিবের পক্ষ থেকে থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিআইডির হাতে।

তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সক্রিয় হয়ে ওঠে সিআইডি। একাধিক তৃণমূল বিধায়ক এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারীরা ঘটনার সূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতেও যান তদন্তকারীরা। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তৃণমূলের আরও তিন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, হাওড়া মধ্যের বিধায়ক অরূপ রায় এবং মহেশতলার বিধায়ক শুভাশিস দাস। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, চিঠিতে ব্যবহৃত স্বাক্ষর ও লেখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নমুনা মিলিয়ে দেখা এবং কোনও জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায় কি না তা খতিয়ে দেখা।

সিআইডি সূত্রে খবর, বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমেরও স্বাক্ষর রয়েছে। সেই স্বাক্ষর কখন, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে করা হয়েছিল, তা জানতে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারেন তদন্তকারীরা। এই কারণেই সিআইডি আধিকারিকদের তাঁর বাসভবনে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সই জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের। আগামী দিনে সিআইডির তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই এখন সকলের নজর।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top