মমতার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে, দেশদ্রোহিতার অভিযোগে একের পর এক অভিযোগ দায়ের

মমতার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে, দেশদ্রোহিতার অভিযোগে একের পর এক অভিযোগ দায়ের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতা এবং উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ তুলে একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে শিলিগুড়ি সাইবার অপরাধ থানায় রিঙ্কু সিংহ চট্টোপাধ্যায় নামে এক মহিলা আইনজীবী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য দেশের ভাবমূর্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা পুলিশের সাইবার অপরাধ শাখায় আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি চন্দ্রচূড় গোস্বামী।

ঘটনার সূত্রপাত ২ জুন ধর্মতলার ওয়াই-চ্যানেলে আয়োজিত এক ধর্না মঞ্চে। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বাংলাদেশের এক বহুল আলোচিত খুনের মামলার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তিকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেফতার করেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পরবর্তীকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে ফোন করে ওই ঘটনা প্রকাশ্যে না আনার অনুরোধ করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় দাবি করেন যে, ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে এবং সরকার পরিবর্তন হলেও তিনি সেই তথ্য জানেন।

মমতার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে করা এই মন্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।

লালবাজারে দায়ের করা অভিযোগে চন্দ্রচূড় গোস্বামী দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। তাঁর মতে, এমন মন্তব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, শিলিগুড়িতে দায়ের হওয়া অভিযোগেও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক পদে থাকা কোনও ব্যক্তির কাছ থেকে এমন মন্তব্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এর ফলে জনমনে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ বাড়ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত অভিযোগগুলির ভিত্তিতে কোনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে একের পর এক অভিযোগ দায়ের হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনে এই বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top