রাজ্য – আইএসএল জয়ের সাফল্য এলেও বিনিয়োগকারী সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি ইস্টবেঙ্গলের। ক্লাবের ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে ইতিমধ্যেই ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তাঁর দাবি, রাজ্যে নতুন করে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং তার ইতিবাচক প্রভাব ক্রীড়াক্ষেত্রেও পড়বে।
ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, অতীতে বিনিয়োগের অভাবের কারণে শুধু শিল্প নয়, খেলাধুলার ক্ষেত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায় বহু তরুণ-তরুণীকে রাজ্যের বাইরে যেতে হয়েছে। একইভাবে বহু খেলোয়াড়ও অন্যত্র সুযোগের খোঁজে পাড়ি দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে এবং আগামী দিনে বড় বড় সংস্থা বাংলায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাবে।
ইস্টবেঙ্গলের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকারী নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, ক্লাব কর্তৃপক্ষ যদি সরকারের সাহায্য চায়, তাহলে সরকার অবশ্যই পাশে থাকবে। যদিও জোর করে কোনও সংস্থাকে বিনিয়োগে বাধ্য করা সম্ভব নয়, তবুও প্রয়োজন হলে সরকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলায় নতুন শিল্প এবং নতুন বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর সুফল কেবল শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেই নয়, রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলিও পাবে। তাঁর বিশ্বাস, ভবিষ্যতে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানসহ অন্যান্য ক্লাবগুলিকে আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হবে না।
অন্যদিকে, ডায়মন্ড হারবার ফুটবল ক্লাবকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন ক্রীড়ামন্ত্রী। তিনি জানান, ক্লাবটির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে এবং ইতিমধ্যেই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে অনিয়ম এবং বেআইনিভাবে সুযোগ দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইন্দ্রনীল খাঁর বক্তব্য, তদন্তের কাজ চলছে এবং খুব শীঘ্রই প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ক্লাবগুলির আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত—এই তিনটি বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। আগামী দিনে এই উদ্যোগগুলি কতটা ফলপ্রসূ হয়, সেদিকেই নজর থাকবে ক্রীড়াপ্রেমীদের।




















