রাজ্য -;তামান্না হত্যা মামলার তদন্তে আরও গতি এল। টানা অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার ও বুধবার মিলিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর ফলে এই মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের খোঁজেও জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয় জিয়ারুল শেখ এবং সাবির শেখকে। এরপর বুধবার আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ফকর শেখ ওরফে ইসমাইল শেখ, হাফিজুল শেখ এবং মিনারুল শেখ। এদের মধ্যে মিনারুল শেখকে হরিয়ানার গুরগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে পশ্চিমবঙ্গে আনার জন্য গুরগাঁও আদালতে আবেদন জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবার বিধানসভায় তামান্না হত্যা প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছিলেন যে নিহত কিশোরীর পরিবার বিচার পাবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, রামপুরহাট, হাঁসখালি, কসবা ল কলেজ, কামদুনি এবং ধূপগুড়ির মতো সংবেদনশীল ঘটনাগুলিতে সরকারের অবস্থান বরাবরই ‘জিরো টলারেন্স’।
এরপরই তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি পরিবারকে আশ্বস্ত করেন যে মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই আশ্বাসের পর থেকেই তদন্তে নতুন গতি আসে এবং একের পর এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এদিকে সমাজমাধ্যমে একটি বার্তা পোস্ট করে পুলিশ প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনও অপরাধীর ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য হবে না। আইনের চোখে সকলেই সমান এবং অপরাধ করলে তার বিচার হবেই— এমন বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন, নিহত নাবালিকার মায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অপরাধীদের কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং আইন তার নিজস্ব পথেই চলবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চব্বিশের বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বোমাবাজির ঘটনায় প্রাণ হারায় কালীগঞ্জের কিশোরী তামান্না। ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও মেয়ের বিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর মা সাবিনা ইয়াসমিন। সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারগুলির পর পরিবারের আশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোবে।




















