রাজ্য – রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে শাসক ও বিরোধী—সব রাজনৈতিক পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানালেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বিধানসভায় বাজেটের ওপর অতিরিক্ত জবাবি ভাষণে তিনি বিগত সরকারের আর্থিক অনিয়মের তীব্র সমালোচনা করে জানান, খুব শীঘ্রই রাজ্যের প্রতিটি সরকারি দপ্তরের আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। তাঁর বক্তব্য, প্রতিটি দপ্তরের আর্থিক কার্যকলাপ খতিয়ে দেখে নিয়ন্ত্রক ও মহালেখা পরীক্ষক (ক্যাগ)-এর রিপোর্টও জনসমক্ষে আনা হবে।
বাজেট আলোচনায় নতুন সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ এবং পূর্ববর্তী সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মধ্যে পার্থক্যও ব্যাখ্যা করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছিল সর্বজনীন প্রকল্প, যেখানে আর্থিক অবস্থান নির্বিশেষে সবাই সুবিধা পেতেন। অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনার লক্ষ্য হল প্রকৃত অর্থে যাঁদের সরকারি সহায়তার প্রয়োজন, তাঁদের কাছেই সেই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি দাবি করেন, আগের সরকার মাত্র ৪ শতাংশ ডিএ দিয়েছিল। বর্তমান সরকার কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করছে। আগামী মার্চ মাসে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের সময় সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো ও ডিএ সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পের অর্থ রাজ্যে আসতে বাধার সৃষ্টি করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, কিছু নির্দিষ্ট প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে কেন্দ্রের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা অনুদান পাওয়া সম্ভব হবে।
বিরোধীদের তোলা প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা প্রসঙ্গে জবাব দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই বিপুল আর্থিক দায় নিয়েই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ দেশেরই অর্থ এবং পশ্চিমবঙ্গও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ের মাধ্যমেই রাজ্যের আর্থিক উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।




















