রাজ্য – যুবক-যুবতীদের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্যের প্রতি আসক্তি বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সি পড়ুয়াদের মধ্যে প্রায় ৮.৫ শতাংশ সিগারেট, গুটখা-সহ বিভিন্ন তামাকজাত দ্রব্যের নেশায় জড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্কুলপড়ুয়াদের তামাকের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে বড় উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) জারি করে তা রাজ্যের প্রতিটি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি স্কুলে নিয়মিত তামাকবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচি চালাতে হবে। কোনও ছাত্র বা ছাত্রী তামাকের নেশায় আসক্ত বলে চিহ্নিত হলে তার জন্য আচরণগত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসা ও পরামর্শের জন্য উচ্চতর স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও পাঠানো হবে। পাশাপাশি, প্রতি ছয় মাস অন্তর প্রতিটি স্কুলকে ১০০ নম্বরের স্ব-মূল্যায়ন করতে হবে। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৯০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর অর্জন করবে, তাদের দেওয়া হবে ‘তামাকমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ শংসাপত্র।
এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি ব্লকে বিশেষ পর্যবেক্ষক দল গঠন করা হচ্ছে। ওই দলে থাকবেন আরবিএসকে মেডিক্যাল অফিসার, স্টাফ নার্স, ফার্মাসিস্ট, অন্বেষা কাউন্সেলর এবং ব্লক হেলথ ম্যানেজার। তাঁরা নিয়মিত বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করে নির্দেশিকা কার্যকর হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে অকালমৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ তামাকের ব্যবহার। বহু ধূমপায়ী ও তামাকাসক্ত ব্যক্তি জানিয়েছেন, ২০ বছর বয়সের আগেই তাঁরা এই নেশার কবলে পড়েছিলেন। তাই অল্প বয়স থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে তামাকাসক্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনস্বাস্থ্য আধিকারিকদের বক্তব্য, ‘টোবাকো ফ্রি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন’ (TOFEI) কর্মসূচির মূল লক্ষ্য রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত করা। একইসঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণে ২০০৩ সালের কটপা (COTPA) আইন আরও কঠোরভাবে কার্যকর করে শিক্ষাঙ্গনে স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার দিকেই জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার।




















