কলকাতা – কলকাতার নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ে পশ্চিমবঙ্গের জুট শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শ্রম দফতরের উদ্যোগে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। উপস্থিত ছিলেন জুট কমিশনারের দফতর (JCO), ইন্ডিয়ান জুট কর্পোরেশন (JCI), ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (IJMA), IJMA-র বাইরে থাকা জুট মিলগুলির প্রতিনিধি, শ্রম দফতরের আধিকারিক এবং জুট শিল্পের ২৩টি কেন্দ্রীয় ও রাজ্যস্তরের ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রচলিত আইন ও দীর্ঘদিনের প্রথা মেনে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শেষের মধ্যে সমস্ত জুট মিলকে শ্রমিকদের বোনাস দিতে হবে। লক্ষ্য, দুর্গাপুজোর আগেই যাতে শ্রমিকরা তাঁদের প্রাপ্য বোনাস হাতে পান। একইসঙ্গে মিলগুলিকে সচল রাখার ক্ষেত্রে সমস্ত ট্রেড ইউনিয়নের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের বোনাস, ভবিষ্যৎ বছরের বোনাস, শিল্প-ব্যাপী নতুন চুক্তি এবং অন্যান্য দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে পুজোর ছুটির পর বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
জুট শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানে JCO ও JCI-এর সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করেও কাজ করার কথা জানিয়েছেন অর্জুন সিং। গুরুত্বপূর্ণভাবে, JCO, JCI এবং National Jute Board (NJB)-সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার জুট-সংক্রান্ত কার্যক্রমে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শ্রম দফতরের একজন আধিকারিককে যুক্ত করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও বস্ত্র মন্ত্রকের সম্মতি মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে জুট শিল্প সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে রাজ্য সরকারের মতামত ও পরামর্শ আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
জুট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কৃষক, শ্রমিক, মিল কর্তৃপক্ষ এবং ব্যবসায়ী মহলের সমস্যাগুলি কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের সামনে তুলে ধরতে নিজে একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী। পাশাপাশি সমস্ত অংশীজনকে নিয়ে একটি ছোট কার্যকরী গোষ্ঠী গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জুট মিলকে পূর্ণ ক্ষমতায় সচল করা, শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা এবং রাজ্যের জুট শিল্পকে ফের শক্তিশালী করাই সরকারের লক্ষ্য বলে বৈঠকের পর বার্তা দেওয়া হয়েছে।




















