বিদেশ – ইরান-আমেরিকা সংঘাত কবে থামবে, তা নিয়ে বড় দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই যুদ্ধ ‘তাৎক্ষণিক ভাবে’ শেষ হয়ে যাবে। ইরান আর বেশিদিন মার্কিন চাপ সহ্য করে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে না বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদী মন্তব্যের সঙ্গে প্রশাসনের অন্দরের মূল্যায়নের মিল নেই।
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, নভেম্বরের ভোট শেষ হলেই যুদ্ধ থেমে যাবে। তাঁর অভিযোগ, ইরান মরিয়া হয়ে মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। যদিও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিদেশসচিব মার্কো রুবিও-সহ ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টাদের একাংশ তাঁকে সতর্ক করেছেন যে তেহরান মার্কিন চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে গেলে সংঘাত তাঁর বর্তমান মেয়াদের শেষ পর্যন্ত, অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্তও গড়াতে পারে।
এর মধ্যেই ইরানের উপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বেড়েছে। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের ‘অসহযোগিতা’র অভিযোগের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) বোর্ড অফ গভর্নরস বুধবার ইরানকে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে রিপোর্ট করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। ৩৫ সদস্যের বোর্ডে ২৩টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়, রাশিয়া, চিন ও নাইজার বিরোধিতা করে এবং আটটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
IAEA-র এই পদক্ষেপকে গত দুই দশকের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে অন্যতম বড় কূটনৈতিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংস্থাটির অভিযোগ, ইরান পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে না। অন্যদিকে তেহরান বরাবরই তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে। ফলে যুদ্ধের ময়দানের পাশাপাশি পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে কূটনৈতিক সংঘাতও আরও তীব্র হচ্ছে।



















