ইন্দ্রনীলের ‘অক্টেভ রেকর্ডস’ থেকে মমতার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ! ‘রয়্যালটি’ দাবি প্রাক্তন মন্ত্রীর, দুর্গাপুজো প্রিভিউ তদন্তে নয়া তথ্য ED-র

ইন্দ্রনীলের ‘অক্টেভ রেকর্ডস’ থেকে মমতার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ! ‘রয়্যালটি’ দাবি প্রাক্তন মন্ত্রীর, দুর্গাপুজো প্রিভিউ তদন্তে নয়া তথ্য ED-র

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



কলকাতা

দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে এবার সামনে এল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিবৃতিতে এই লেনদেনের উল্লেখ করা হলেও, ওই অর্থ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনও অপরাধমূলক যোগের কথা ED সরাসরি বলেনি।

দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ এবং UNESCO-র নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই তদন্তের সূত্রপাত। গত মঙ্গলবার ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ি-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ED। পরদিন সল্টলেকের CGO কমপ্লেক্সে তাঁকে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার তদন্তের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।

ED-র দাবি, ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর মালিকানাধীন সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তাঁর মন্ত্রী থাকাকালীন নগদে ৩.৮ কোটি টাকারও বেশি জমা পড়েছিল। একই সঙ্গে ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি ED-র।

তবে এই টাকা কেন দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্নের জবাবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইন্দ্রনীল সেন এটিকে ‘রয়্যালটি’ বাবদ দেওয়া অর্থ বলে দাবি করেছেন বলে জানিয়েছে ED। অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী গান, সুর বা অন্যান্য সৃজনশীল কাজের রয়্যালটি হিসেবেই এই টাকা দেওয়া হয়েছিল। ED-র প্রকাশিত বিবৃতিতে এই লেনদেনকে নিজে থেকে অপরাধমূলক লেনদেন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

এদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও ED-র এই তথ্য নিয়ে পাল্টা বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর লেখা গান, কবিতা ও সুরের জন্য দীর্ঘদিন ধরে রয়্যালটি পেয়ে থাকেন এবং সেই রয়্যালটি ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে, টিডিএস কেটে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই আয় আয়কর রিটার্নেও ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ED-র তদন্তে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো ঘিরে আরও বেশ কিছু আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এক লক্ষেরও বেশি প্রিভিউ টিকিট ইস্যু করা হয়েছিল। পাশাপাশি ইন্দ্রনীল সেনের মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর দফতরের ৮৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের একাধিক টেন্ডার তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েকজনের সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল বলেও ED দাবি করেছে। সেই অর্থের গতিপথও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ফলে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ পাস সংক্রান্ত তদন্তে একদিকে যেমন টিকিট বিক্রি ও অর্থের গতিপথ খতিয়ে দেখছে ED, তেমনই ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে যাওয়া প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার লেনদেন নিয়েও নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই অর্থের প্রকৃতি নিয়ে ইন্দ্রনীল সেনের ‘রয়্যালটি’ দাবিই আপাতত তদন্তে নথিভুক্ত বক্তব্য হিসেবে সামনে এসেছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top