বিদেশ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে বড় আইনি ধাক্কার মুখে পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বোস্টনের একটি জেলা আদালত H-1B ভিসার জন্য নির্ধারিত ১ লক্ষ ডলারের অতিরিক্ত ফি বাতিল করে দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই ধরনের ফি কার্যত একটি করের সমতুল্য এবং তা কার্যকর করতে হলে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। সেই অনুমোদন ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে।
সোমবার প্রকাশিত ৪২ পাতার রায়ে আদালত জানায়, প্রশাসন তাদের আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এই ফি নির্ধারণ করেছিল। ফলে ওই সিদ্ধান্তকে বৈধ বলে গণ্য করা যায় না এবং তা বাতিল করা হচ্ছে।
H-1B ভিসা দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি দক্ষ কর্মী, প্রযুক্তিবিদ এবং বিশেষজ্ঞ পেশাজীবীদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ করে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবীদের মধ্যে এই ভিসার চাহিদা অত্যন্ত বেশি। আমেরিকার বহু বড় প্রযুক্তি সংস্থা এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এই ভিসার মাধ্যমে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নিয়োগ করে থাকে।
ফি বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার পর থেকে মার্কিন সংস্থা এবং বিদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কারণ এত বড় অঙ্কের অতিরিক্ত ব্যয় অনেক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরিকল্পনা এবং বহু আবেদনকারীর ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগকে প্রভাবিত করতে পারত। আদালতের এই রায়ের ফলে সংশ্লিষ্ট মহলে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, মার্কিন নাগরিক এবং স্থানীয় স্নাতকদের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকও এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। তবে আদালত সেই যুক্তিকে যথেষ্ট বলে মনে করেনি।
ট্রাম্প প্রশাসনের আরও দাবি ছিল, অভিবাসন সংক্রান্ত বিশেষ ক্ষমতার ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশের উপর বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারেন। সেই ক্ষমতার আওতাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে প্রশাসনের বক্তব্য। কিন্তু আদালত জানিয়ে দেয়, আর্থিক বোঝা বা করসদৃশ ফি আরোপের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় শুধু H-1B ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নয়, ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। একইসঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হতে পারে। ফলে আগামী দিনে এই মামলার আইনি লড়াই আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



















