রাজ্য – তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’-কে মঙ্গলবার ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে পেশ করা হয় কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে। আদালত চত্বর কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। ধৃতকে আদালতে আনার সময় মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। আদালতের ভিতর ও বাইরে ছিল কড়া নজরদারি।
প্রশাসন সূত্রে খবর, জাহাঙ্গির খানকে আদালতে পেশ করা ঘিরে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা যাতে তৈরি না হয়, সেই কারণেই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। গোটা পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালান পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরাও।
জানা গিয়েছে, ফলতার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই কারণেই আদালতে তোলার সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
এদিনের শুনানিকে ঘিরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সামনে আসে। ডায়মন্ড হারবার ক্রিমিনাল কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাহাঙ্গির খানের হয়ে কোনও আইনজীবী আদালতে সওয়াল করবেন না। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আইনি মহল ও রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালীন ব্যাপক অনিয়ম ও রিগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। ভোটারদের ভয় দেখানো থেকে শুরু করে ইভিএমে সেলোটেপ লাগানোর মতো গুরুতর অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা পড়ে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই কার্যত উধাও হয়ে যান একসময়কার প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গির খান। দীর্ঘ সময় তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা সফল হয়নি। নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
জাহাঙ্গির খানের গ্রেফতারি এবং আদালতে পেশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে মামলার অগ্রগতি এবং তদন্তের গতিপ্রকৃতির দিকে নজর থাকবে প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের।


















