রাজ্য – জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ সাংসদদের অবস্থান নিয়ে। বেশ কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছিল যে দলের কিছু সাংসদ কেন্দ্রীয় শাসক জোট এনডিএ-র প্রতি সমর্থন জানাতে পারেন। সোমবার সেই জল্পনা আরও জোরালো হয় দিল্লিতে একাধিক বৈঠককে ঘিরে।
সূত্রের দাবি, বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে কয়েকজন সাংসদ দিল্লিতে বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়াও বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথাও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু করেছে। ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, লোকসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠিও জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। সেই চিঠিতে সংশ্লিষ্ট সাংসদরা সংসদে তাঁদের আসন বিন্যাস নিয়ে আবেদন জানিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ সামনে আসেনি।
এদিকে বর্ধমান পূর্বের সাংসদ শর্মিলা সরকার জানিয়েছেন, তাঁরা সরাসরি এনডিএ-তে যোগ দিচ্ছেন না। তাঁর বক্তব্য, দলের মধ্যে একটি পৃথক গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, যারা নির্দিষ্ট কিছু ইস্যুতে এনডিএ-কে সমর্থন করতে পারে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে মানুষের জন্য কাজ করা কঠিন হয়ে উঠেছে।
সোমবার দিল্লিতে রাজনৈতিক তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। একদিকে বিরোধী জোটের বৈঠকে অংশ নেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে দলের একাংশ সাংসদদের পৃথক বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সূত্রের দাবি, কয়েকজন সাংসদ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তবে এই ঘটনাবলির পরও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও চূড়ান্ত অবস্থান জানানো হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন দিল্লির পরবর্তী বৈঠক এবং সংশ্লিষ্ট সাংসদদের ঘোষণার দিকে। আগামী দিনে এই জল্পনা কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।


















