রাজ্য – প্রথম দফার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের সম্পদের হিসাব সামনে আসতেই স্পষ্ট হয়ে গেল বিশাল বৈষম্যের ছবি। কারও সম্পদ ১৩৩ কোটির বেশি, আবার কারও সম্পদ মাত্র ৫০০ বা ৭০০ টাকার মতো। যেখানে গড় সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটির কাছাকাছি, সেখানে বহু প্রার্থীর সম্পদ হাজার টাকাও ছুঁতে পারেনি।
যেমন দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রে আম জনতা পার্টির প্রার্থী রুবিয়া বেগমের মোট সম্পত্তি মাত্র ৫০০ টাকা। অন্যদিকে মেদিনীপুরে এসইউসিআই প্রার্থী সুশ্রিতা সোরেনের স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে সম্পদ ৭০০ টাকা। জলপাইগুড়ি কেন্দ্রের এসইউসিআই প্রার্থী যশোদা বর্মণের সম্পত্তি ৯২৪ টাকা। এই তথ্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে, নির্বাচনী লড়াইয়ে আর্থিক বৈষম্য কতটা গভীর।
হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, ১০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৩৫ জন। ৫ থেকে ১০ কোটির মধ্যে রয়েছেন ৪৬ জন। ১ থেকে ৫ কোটি সম্পত্তির অধিকারী ২২৮ জন। অন্যদিকে ২০ লক্ষ টাকার কম সম্পদ রয়েছে ৭১৮ জন প্রার্থীর। প্রথম দফায় মোট ১৪৭৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ১০০৯ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এবং ৪৬৬ জন নির্দল।
এই তথ্য বিশ্লেষণ করেছে West Bengal Election Watch। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৩ এপ্রিলের ভোটে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৩০৯ জন। প্রার্থীদের দলভিত্তিক গড় সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ৪৭৭ টাকা।
দলভিত্তিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, All India Trinamool Congress-এর ১০৬ জন প্রার্থী কোটিপতি। Bharatiya Janata Party-এর ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৭১ জন, যা মোটের প্রায় ৪৭ শতাংশ। Indian National Congress-এর ৫০ জন এবং Communist Party of India (Marxist)-এর ২৪ জন প্রার্থী কোটিপতি তালিকায় রয়েছেন।
নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থীদের সোনা, গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হয়। সেই হিসাবেই সামনে এসেছে এই বৈষম্যের চিত্র। সব মিলিয়ে, একদিকে বিপুল সম্পদের প্রার্থী, অন্যদিকে প্রায় নিঃস্ব প্রার্থীদের উপস্থিতি—এই দুই চিত্রই এবারের নির্বাচনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।




















