গোসাবায় গুলিবিদ্ধ তৃণমূল কর্মী, ভোটের মুখে তীব্র রাজনৈতিক তরজা

গোসাবায় গুলিবিদ্ধ তৃণমূল কর্মী, ভোটের মুখে তীব্র রাজনৈতিক তরজা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দক্ষিন 24 পরগনা – দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবায় তৃণমূল কর্মী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার গভীর রাতে শম্ভুনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভূপেন্দ্রপুর এলাকায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর জখম হন তৃণমূল কর্মী দিব্যেন্দু গায়েন। বর্তমানে তিনি কলকাতার Chittaranjan National Medical College and Hospital-এ চিকিৎসাধীন। এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে দলীয় বৈঠক সেরে মোটরবাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন দিব্যেন্দু। অভিযোগ, আগে থেকেই ওত পেতে থাকা দুষ্কৃতীরা আচমকাই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একটি গুলি তাঁর ডান পায়ের উরুতে লাগে। গুলির আঘাতে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। রাতের নীরবতা ভেঙে গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন। প্রথমে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তিনি আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও চিকিৎসকদের কড়া নজরে রাখা হয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। All India Trinamool Congress-এর স্থানীয় নেতৃত্ব সরাসরি Bharatiya Janata Party-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। তাঁদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং ভোটের আগে এলাকায় আতঙ্ক তৈরির লক্ষ্যেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপির তরফে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। গোসাবা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিকর্ন নস্কর দাবি করেছেন, তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে এবং বিজেপির উপর ভিত্তিহীন অভিযোগ চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিব্যেন্দু গায়েন এলাকায় তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। আগামী ২২ এপ্রিল গোসাবা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মণ্ডলের সমর্থনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সভাকে সামনে রেখে রবিবার সন্ধ্যায় দলীয় বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার সময়ই তিনি হামলার শিকার হন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। তবে এর পেছনে রাজনৈতিক না ব্যক্তিগত শত্রুতা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কোনও পক্ষের অভিযোগই এখনও প্রমাণিত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top