রাজ্য – রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই বাড়ছে চাপ ও অনিশ্চয়তা। একের পর এক কাউন্সিলরের পদত্যাগ, দলত্যাগ এবং গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা, সেই সময় কালীঘাটের বাড়িতে দমদম লোকসভা সাংগঠনিক জেলার পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দমদম জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। দলীয় সূত্রে খবর, মূলত কাউন্সিলরদের মনোবল ধরে রাখা, সংগঠনকে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচানো এবং ভবিষ্যতের আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।
এই বৈঠক থেকেই তৃণমূল নেত্রী পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ আইনি সহায়তা কমিটি গঠনের ঘোষণা করেন। কমিটিতে রাখা হয়েছে মলয় ঘটক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মদন মিত্র, তাপস চট্টোপাধ্যায় এবং সব্যসাচী দত্তকে। দলীয় কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি সমস্যা তৈরি হলে বা কোনও অভিযোগ থাকলে সরাসরি এই কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বর্তমানে বিভিন্ন পুরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বৈঠকে তিনি বলেন, এমন বহু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে প্রকৃতপক্ষে কোনও অপরাধ না ঘটলেও কাউন্সিলরদের নাম জড়ানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, ২০২১ সালের পুরনো ঘটনাগুলিকেও সামনে এনে এখন নতুন করে মামলা করা হচ্ছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে।
এই পরিস্থিতিতে কাউন্সিলরদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, ভয় পেয়ে সংগঠন ছেড়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। দল তাঁদের পাশে রয়েছে এবং আইনি লড়াইয়েও পূর্ণ সহায়তা করবে।
তবে একইসঙ্গে বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতিও স্বীকার করে নেন মমতা। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পুরসভার কাউন্সিলরদের পদত্যাগ ও দলত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এই বৈঠককে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বৈঠকের শেষে আবেগঘন সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি কাউকে জোর করে আটকে রাখব না। যাঁদের ইচ্ছে তাঁরা যেতে পারেন। কিন্তু যাঁরা দলের সঙ্গে থাকবেন, তাঁদের নিয়েই আমি আবার নতুন করে দল গড়ব।” তিনি আরও বলেন, কঠিন সময় এলেও সংগঠন আবার ঘুরে দাঁড়াবে এবং সবাইকে নিজেদের উপর আস্থা রাখার বার্তাও দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের ভিতরে যে চাপা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, এই বৈঠক ছিল তা সামাল দেওয়ারই কৌশল। বিশেষ করে কাউন্সিলর স্তরে ভাঙন রুখতে এবং সংগঠনকে ধরে রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সরাসরি সক্রিয় হয়েছেন, এই বৈঠক সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট করে দিল।




















