বিধানসভা ভোটের পর এবার পুরভোটের প্রস্তুতি, নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন চায় রাজ্য সরকার

বিধানসভা ভোটের পর এবার পুরভোটের প্রস্তুতি, নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন চায় রাজ্য সরকার

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ এখনও পুরোপুরি কাটেনি, তার মধ্যেই এবার রাজ্যের পুরভোট নিয়ে বড় প্রস্তুতি শুরু করে দিল নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে প্রশাসনিক স্তরে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, কলকাতা পুরসভা-সহ রাজ্যের বকেয়া পুরসভাগুলির নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। সূত্রের খবর, আগামী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরভোটের প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চাইছে রাজ্য সরকার।
এই লক্ষ্যে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং আসন সংরক্ষণের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, চলতি বছরের নভেম্বরেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ৯ মাসের মধ্যে রাজ্যের মোট ১২৭টি পুরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে অথবা সেখানে ভোট বাকি রয়েছে। ফলে এত বড় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা নতুন সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
তার উপর এই মুহূর্তে রাজ্য নির্বাচন কমিশন কার্যত নেতৃত্বহীন অবস্থায় রয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা পদ ছাড়ার পর এখনও নতুন কমিশনার নিয়োগ হয়নি। সম্প্রতি কমিশনের সচিব নীলাঞ্জন শাণ্ডিল্যের মেয়াদবৃদ্ধিও বাতিল করা হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর তিনি পদত্যাগ করেছেন বলেই সূত্রের খবর। এমনকি কমিশনে যুগ্ম সচিব পর্যায়ের আধিকারিকও নেই বর্তমানে। ফলে প্রশাসনিক শূন্যতার মধ্যেই ভোটের প্রস্তুতি কত দ্রুত এগোয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার ১৫টি পুরসভায় কোনও নির্বাচিত বোর্ড নেই। প্রশাসক বসিয়েই চলছে পুর পরিষেবা। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হাওড়া পুরসভা, যেখানে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে নির্বাচন হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভা গঠনের পরেই পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে অগ্নিমিত্রা জানান, শুধু হাওড়া নয়, রাজ্যের সমস্ত পুরসভার নির্বাচন নিয়েই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কয়েকদিন আগেই হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই হাওড়া ও বালি পুরসভায় ভোট করানো হবে। দীর্ঘদিন ভোট না হওয়ায় নাগরিক পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাওড়া ছাড়াও দুর্গাপুর, ডোমকল, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর, পূজালি, কার্শিয়াং, মিরিক, কালিম্পং, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কুপার্স ক্যাম্প, নলহাটি এবং ধূপগুড়ি-সহ একাধিক পুরসভায় দীর্ঘদিন নির্বাচন হয়নি।
এদিকে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন পুরবোর্ডে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে। তৃণমূল পরিচালিত একাধিক পুরসভায় কাউন্সিলরদের পদত্যাগ ও দলবদলের ঘটনা সামনে এসেছে। সোমবার ডায়মন্ড হারবার পুরসভায় একযোগে ৮ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের পদত্যাগ নতুন করে রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে সমস্ত পুরবোর্ড ভেঙে যাচ্ছে বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাচ্ছে, সেখানে সাধারণ মানুষের স্বার্থে অবিলম্বে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top