মৃত্যুর ২০ দিন পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে তোলা হল নাবালিকা বধূর দেহ, খুনের অভিযোগে চাঞ্চল্য মালদায়

মৃত্যুর ২০ দিন পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে তোলা হল নাবালিকা বধূর দেহ, খুনের অভিযোগে চাঞ্চল্য মালদায়

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



মালদা – মালদার রতুয়া থানার এক নাবালিকা বধূর মৃত্যুকে ঘিরে নতুন মোড়। মৃত্যুর প্রায় কুড়ি দিন পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে তাঁর মৃতদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। সোমবার ম্যাজিস্ট্রেট এবং রতুয়া থানার পুলিশের উপস্থিতিতে দেহটি কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হলেও শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পর থেকেই ওই কিশোরীর উপর যৌতুকের জন্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হত। মৃতার মায়ের দাবি, শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে এক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। সেই টাকা না দিলে তাঁর মেয়েকে খুন করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।

গত ১৮ মে মেয়ের মৃত্যুর খবর পান মৃতার মা। খবর পেয়ে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে তিনি মেয়ের গলায় কালশিটের দাগ দেখতে পান বলে অভিযোগ করেন। এরপর মৃত্যুর প্রায় ১২ দিন পর তিনি স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির সাতজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ মৃতার দাদাশ্বশুরকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করে। এরপর পকসো আদালতের বিচারক জয়শঙ্কর রায় মৃতদেহ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্ত করার নির্দেশ দেন। আদালতের সেই নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার দেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার সময় যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, তার জন্য কবরস্থানে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। এলাকার বহু মানুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন। পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে এবং সমস্ত প্রক্রিয়া আইন মেনেই সম্পন্ন করা হয়।

দেহ উত্তোলনের পর তা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী তদন্তের দিক নির্ধারণ করা হবে।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থাও সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top