হাওড়া – বর্ষা এলেই জলজটের সমস্যায় নাজেহাল হতে হয় হাওড়া শহরবাসীকে। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এবার নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার থেকে হাওড়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিকাশি সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজ পরিদর্শনে সকালে শহরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা উত্তর হাওড়ার বিধায়ক উমেশ রাই এবং শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ।
এদিন দুই জনপ্রতিনিধি হাওড়া শহরের প্রধান নিকাশি নালা পচাখাল পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি বেলগাছিয়া ভাগাড়, বি রোড, হরিশ কলোনি এবং বিভিন্ন পাম্পিং স্টেশন এলাকা ঘুরে নিকাশি ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখেন। শহরের কোথায় কী ধরনের সমস্যা রয়েছে এবং কীভাবে দ্রুত সমাধান করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন তাঁরা।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, লিলুয়ার রানীঝিল থেকে বিরাডিঙি পর্যন্ত পচাখালের পলি অপসারণ ও সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। কেএমডিএ-র তত্ত্বাবধানে একটি সংস্থা এই কাজ করছে। প্রকল্পের জন্য প্রায় ২৭ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর হাওড়া, বালি ও শিবপুর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার জন্য পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে বিশেষ পর্যালোচনাও করা হয়েছে।
পরিদর্শনের শেষে উমেশ রাই জানান, শহরের বিভিন্ন ড্রেনে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে আবর্জনা ফেলার প্রবণতা নিকাশি ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে নর্দমা ও ড্রেন বন্ধ হয়ে যায় এবং বৃষ্টির জল দ্রুত বেরোতে পারে না। সেই কারণেই বর্ষাকালে শহরের বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, এই প্রবণতা রোধে সরকার কঠোর আইন কার্যকর করতে চলেছে।
মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ড্রেন বা নর্দমায় আবর্জনা ফেললে জরিমানা এবং প্রয়োজন হলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও করা হবে। সাধারণ মানুষকে শহর পরিষ্কার রাখতে সচেতন হওয়ারও আবেদন জানান তিনি।
অন্যদিকে বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, নর্দমার জল সরাসরি গঙ্গায় ফেলা সম্ভব নয়। তাই নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী জমা জল নির্দিষ্ট কয়েকটি সংগ্রহকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে পরিশোধনের পর গঙ্গায় ফেলা হবে। তাঁর দাবি, এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে ভবিষ্যতে হাওড়া শহরের জলজট সমস্যার অনেকটাই স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।




















