রাজ্য – রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই মহার্ঘভাতা বা ডিএ নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন সরকারি কর্মীরা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির তরফে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যেই বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতির কথাই শোনা গিয়েছিল দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। এবার মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর ডিএ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
আগামী সোমবার নবান্নে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও প্রথমে এই বৈঠক ৩০ মে হওয়ার কথা ছিল। পরে সূচি পরিবর্তন করে ১ জুন বিকেল ৫টায় বৈঠকের নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি লড়াই চলছিল। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। সর্বোচ্চ আদালত বকেয়া মহার্ঘভাতার একটি অংশ মেটানোর নির্দেশও দিয়েছিল। নির্দেশ অনুযায়ী, মোট বকেয়ার ২৫ শতাংশ দু’দফায় দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সরকারি কর্মীদের একাংশ সেই টাকা পেলেও এখনও বহু কর্মী পুরো বকেয়া পাননি। ফলে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ডিএ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলেই আশা করছেন আন্দোলনকারীরা।
প্রথমে শোনা গিয়েছিল বিজেপি সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু সেই বৈঠক শেষে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ডিএ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। ইতিমধ্যেই দুটি মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়ে গেলেও সেখানে ডিএ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আসেনি।
তবে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলি এখনও আশাবাদী। সম্প্রতি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রধান আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকের পরই নবান্নে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, দিল্লি সফর সেরে ফিরেই সরকারি কর্মচারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই বৈঠকে ডিএ মামলাকারী ও আন্দোলনকারী বিভিন্ন কো-অর্ডিনেশন কমিটি এবং সংগঠনের প্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁরা আশাবাদী যে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অশিক্ষক কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের পথে এগোবেন।
রাজ্যে নতুন সরকারের একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাঝেই ডিএ ইস্যু এখন সরকারি কর্মীদের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তাই নবান্নের এই বৈঠকের দিকে এখন নজর রয়েছে হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের।




















