১২ বছর পর মোদির সঙ্গে বৈঠক থলপতি বিজয়ের, জাতীয় রাজনীতিতে জোর জল্পনা

১২ বছর পর মোদির সঙ্গে বৈঠক থলপতি বিজয়ের, জাতীয় রাজনীতিতে জোর জল্পনা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দেশ -;দীর্ঘ বারো বছর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয়। তবে এবার আর অভিনেতা বা রাজনৈতিক নবাগত হিসেবে নয়, বরং দক্ষিণ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসলেন তিনি। বুধবার রাজধানীর সেবাতীর্থে প্রায় ২৫ মিনিট ধরে চলে মোদি-বিজয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এটাই ছিল বিজয়ের প্রথম দিল্লি সফর। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। বৈঠকের পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জল্পনাও শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এই সাক্ষাৎকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
সূত্রের খবর, বৈঠকে তামিলনাড়ুর উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গানকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন বিজয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বার্তাই দিতে চেয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস থেকে চোল সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক তাম্রলিপি ভারতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান বিজয়। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রশ্নে তাঁর এই অবস্থানকেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দিল্লির তামিলনাড়ু হাউসে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। সেখানে তাঁকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং ‘গার্ড অফ অনার’-এর মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। সূত্রের খবর, দিল্লি সফরের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সদ্য সমাপ্ত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফলও রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় কোনও দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। বিজয়ের দল টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও জাদু সংখ্যার থেকে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। নির্বাচনে দলটি ১০৮টি আসনে জয় পেয়েছিল। পরে কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়ক এবং বাম দলগুলির সমর্থনে সরকার গঠন করে টিভিকে। পাশাপাশি ভিসিকে এবং মুসলিম লিগের সমর্থনও পান বিজয়। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি।
তামিল রাজনীতিতে সিনেমা থেকে উঠে আসা নেতাদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এম জি আর, জয়ললিতা কিংবা করুণানিধির রাজনৈতিক উত্তরসূরিদের মতোই এবার সেই ধারার নতুন মুখ হয়ে উঠেছেন থলপতি বিজয়। তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর প্রথম দিল্লি সফর এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দক্ষিণ ভারতে নিজেদের প্রভাব আরও বাড়াতে বিজেপি যেমন নতুন সমীকরণের দিকে নজর রাখছে, তেমনই জাতীয় স্তরে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও মজবুত করতে চাইছেন থলপতি বিজয়ও। ফলে মোদি-বিজয়ের এই বৈঠক আগামী দিনে তামিলনাড়ু তথা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করতে পারে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top