রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নতুন বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দিনই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫৮ জন সমর্থক বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিরোধী দলনেতার দফতরে প্রবেশ করেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই একটি বিশেষ ঘটনা ঘিরে বিধানসভার অন্দরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সূত্রের দাবি, দফতরে প্রবেশের পর নির্ধারিত চেয়ারে বসতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ওই চেয়ারটি একসময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত ছিল। এরপরই তিনি সেই আসনে বসতে অস্বীকৃতি জানান বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহল ও রাজনৈতিক শিবিরে শুরু হয় নানা আলোচনা।
পরবর্তীতে বিকল্প ব্যবস্থায় তাঁর বসার ব্যবস্থা করা হয়। বিধানসভার সচিবালয়ের তরফে বিরোধী দলনেতার দফতরের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর বিধানসভা চত্বরে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়।
সূত্র আরও জানাচ্ছে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি প্রাক্তন বামফ্রন্ট নেতা সূর্যকান্ত মিশ্রের ব্যবহৃত চেয়ার আনার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন, যদিও সেটি তখন উপলব্ধ ছিল না। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও পক্ষই নিশ্চিত মন্তব্য করেনি।
তবে চেয়ার বিতর্কের থেকেও বেশি রাজনৈতিক তাৎপর্য পেয়েছে তাঁর সাংবাদিক বৈঠকের বক্তব্য। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তাঁর নেতৃত্বাধীন বিরোধী পরিষদীয় দলের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও সম্পর্ক নেই। একইসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই মান্যতা দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনে তিনি পরামর্শদাতার ভূমিকা নিতে পারেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অবস্থান একদিকে সংগঠনের ভেতরের বিভাজনকে ইঙ্গিত করছে, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান না করে একটি ভারসাম্যের বার্তাও দিচ্ছে।
অন্যদিকে, আদি তৃণমূলের মনোনীত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পাল্টা দাবি করেছেন যে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এখনও সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা আছেন। ফলে বিধানসভায় বিরোধী শিবিরের এই নতুন সমীকরণ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মত বিশ্লেষকদের।




















