রাজ্য – রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পর এবার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা মহার্ঘ ত্রাণ বা ডিয়ারনেস রিলিফ (ডিআর) প্রদান শুরু করেছে নবান্ন। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া ডিআর এবার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হচ্ছে।
গত ২৯ মে এই সংক্রান্ত বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বকেয়া অর্থ বিতরণের সময় দেখা যায় যে বহু পেনশনভোগী বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ইতিমধ্যেই প্রয়াত হয়েছেন। ফলে তাঁদের প্রাপ্য অর্থ কার হাতে এবং কীভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। সেই সমস্যার সমাধান করতেই সরকার আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট নির্দেশিকা চালু করেছিল।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বা পেনশনভোগীর মৃত্যু হয়ে থাকলে তাঁর বকেয়া ডিআর প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অনুসরণ করা হবে। যদি সংশ্লিষ্ট কর্মীর মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনির নাম সরকারি দফতরের নথিতে আগে থেকেই উল্লেখ থাকে, তাহলে বকেয়া অর্থ সরাসরি সেই নমিনির কাছেই পৌঁছে দেওয়া হবে।
এছাড়া, যদি পারিবারিক পেনশনভোগী এবং নথিভুক্ত নমিনি একই ব্যক্তি হন, তাহলে কোনও অতিরিক্ত প্রক্রিয়া ছাড়াই বকেয়া অর্থ সরাসরি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হবে। এর ফলে অর্থপ্রদান প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হবে বলে প্রশাসনের আশা।
অন্যদিকে, যদি কোনও নমিনির তথ্য সরকারি নথিতে না থাকে, তাহলে মৃত কর্মীর আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই-বাছাই সম্পূর্ণ হওয়ার পরই তাঁদের হাতে বকেয়া অর্থ তুলে দেওয়া হবে। প্রশাসনের দাবি, এই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রকৃত দাবিদারদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
শুধু অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও পেনশনভোগীদের ডিআর নয়, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) প্রদান প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার থেকেই বকেয়া ডিএ মেটানোর কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে।
বর্তমানে ২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া ডিএ ও ডিআর পরিশোধ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বকেয়া অর্থের দাবিতে কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্তদের বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠছিল। অবশেষে সেই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বহু কর্মী, পেনশনভোগী এবং তাঁদের পরিবার স্বস্তি পেয়েছেন।
প্রশাসনের মতে, ধাপে ধাপে সমস্ত যোগ্য প্রাপকদের বকেয়া অর্থ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বহু বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের আর্থিক স্বস্তি বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।




















