কল্যাণ-অভিষেক দ্বন্দ্বে নতুন জল্পনা, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

কল্যাণ-অভিষেক দ্বন্দ্বে নতুন জল্পনা, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ। ভোট-পরবর্তী ধাক্কা, একের পর এক সাংসদের দলত্যাগ এবং সাংগঠনিক অসন্তোষের আবহে এবার প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দলের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, দলের সংকটময় পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি আবারও আগের মতো সক্রিয়ভাবে নেতৃত্বের দায়িত্ব নিজের হাতে নেবেন, নাকি বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামোকেই সমর্থন করবেন?

বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, দলের বর্তমান দুরবস্থার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই দায়ী। তাঁর দাবি, অভিষেকের নেতৃত্বে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং তার ফলেই দল জনরোষ ও রাজনৈতিক চাপে পড়েছে। এমনকি তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, দলে তাঁকে অথবা অভিষেককে— একজনকে বেছে নিতে হবে।

এই বিরোধের সূত্রপাত একটি আইনি মামলাকে কেন্দ্র করে। কল্যাণের অভিযোগ, বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় তাঁর ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে হঠাৎ করেই আইনজীবীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে গভীর রাতে জানানো হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে দলের আরেক নেতা কুণাল ঘোষও জানিয়েছেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অনুগত থাকলেও দলের ভুল সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে পিছপা হবেন না। তাঁর মতে, লোকসভায় একাধিক সাংসদের দলত্যাগ সংসদীয় নেতৃত্বের ব্যর্থতারই প্রতিফলন।

তৃণমূলের তরুণ নেতৃত্বের একাংশের মধ্যেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ছাত্রনেতা কোহিনূর মজুমদারের বক্তব্য, সংগঠনকে নতুন করে শক্তিশালী করতে হলে অভিষেককে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে সাধারণ কর্মীর ভূমিকায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বাস্তব পরিস্থিতি এতটা সরল নয়। পরিবারকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলিতে উত্তরাধিকার, নেতৃত্ব এবং ক্ষমতার ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে অভিষেককে ঘিরে বিতর্ক বাড়লেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দলীয় ঐক্য বজায় রাখা। আগামী দিনে তিনি কী সিদ্ধান্ত নেন, তার উপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top