অফবিট – দার্জিলিং মানেই ম্যাল, টয় ট্রেন বা চা-বাগান—এই পরিচিত ছবির বাইরে যদি নিরিবিলি পাহাড়ি পরিবেশে কয়েকটা দিন কাটাতে চান, তাহলে দাওয়াইপানি হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। দার্জিলিং শহর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে প্রায় ৬,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম এখনও পর্যটকদের ভিড় থেকে অনেকটাই দূরে। স্থানীয় ভাষায় ‘দাওয়াইপানি’-র অর্থ ‘ঔষধি জল’। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, সবুজ পাইন বন, চা-বাগান এবং পাহাড়ি জীবনের সরলতা ভ্রমণকে করে তোলে স্মরণীয়।
দাওয়াইপানিতে গেলে সূর্যোদয়ের সময় কাঞ্চনজঙ্ঘা ভিউ পয়েন্টের অপরূপ দৃশ্য অবশ্যই উপভোগ করা উচিত। কাছেই রয়েছে সেনচাল অরণ্য, যেখানে পাখি দেখা, প্রকৃতির মাঝে হাঁটা এবং ফটোগ্রাফির দারুণ সুযোগ রয়েছে। এছাড়া অল্প দূরত্বেই রয়েছে লামাহাটা ইকো পার্ক এবং গ্লেনবার্ন, তাকদা ও লামাহাটার সবুজ চা-বাগান। চাইলে একদিনে দার্জিলিং শহরের বাতাসিয়া লুপ, পিস প্যাগোডা, হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট এবং পদ্মজা নাইডু চিড়িয়াখানাও ঘুরে দেখা যায়।
এখানকার অধিকাংশ আবাসনই স্থানীয়দের পরিচালিত হোমস্টে। আরামদায়ক কক্ষ, পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য, আন্তরিক আতিথেয়তা এবং ঘরোয়া পরিবেশই দাওয়াইপানির অন্যতম আকর্ষণ। খাবারের তালিকায় থাকে গরম মোমো, থুকপা, নেপালি স্টাইল চিকেন, ডাল-ভাত, স্থানীয় অর্গানিক শাকসবজি এবং সুস্বাদু পাহাড়ি চা। সাধারণ অথচ টাটকা খাবারের স্বাদ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
কলকাতা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত ট্রেনে পৌঁছে সেখান থেকে গাড়িতে সহজেই দাওয়াইপানি যাওয়া যায়। যাতায়াত, থাকা এবং খাবার মিলিয়ে জনপ্রতি মোট খরচ সাধারণত প্রায় ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে যায়, যদিও যাতায়াতের ধরন অনুযায়ী খরচ কমবেশি হতে পারে।
দাওয়াইপানি ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল। এই সময় আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোরম দৃশ্য দেখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বর্ষাকালে ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় সে সময় ভ্রমণ এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।



















