রাজ্য – বিধানসভার অধিবেশনে পুলিশ বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুরনো চিটফান্ড কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি সিপিএমকেও তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে চিটফান্ড সংস্থাগুলির প্রসারে অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা ছিল এবং সেই প্রসঙ্গেই সিপিএমের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তোলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিপিএম ছিল চিটফান্ডের ক্যাম্পেনার।” তাঁর অভিযোগ, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার-সহ বাম নেতৃত্বের একাংশও এই বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, “ত্রিপুরার সিপিএমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন, আর এখানে যাঁরা বড় বড় জ্ঞান দিচ্ছেন, তাঁরাও ছিলেন। আমি সব বের করেছি।” তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বক্তব্যের সময় বামফ্রন্টের সম্পত্তি নিয়েও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সাদ্দাম হোসেনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সিপিএম টাকা তুলে যে পরিমাণ পার্টি অফিস করেছে, ইরাকে অত প্রাসাদ সাদ্দাম হোসেনেরও ছিল না।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে চিটফান্ড কেলেঙ্কারির ঘটনায় অতীতে একাধিক তদন্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। অন্যদিকে, তৃণমূলও অতীতে চিটফান্ড ইস্যুতে বামফ্রন্ট সরকার এবং ত্রিপুরায় রোজ ভ্যালি সংস্থার বিস্তার নিয়ে সিপিএম নেতৃত্বকে একাধিকবার আক্রমণ করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে এবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে তৃণমূল ও সিপিএম—উভয়কেই একসঙ্গে নিশানা করা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।




















