মুর্শিদাবাদ – রাজ্যের বিড়ি শ্রমিকদের জীবনযাত্রা, কর্মপরিবেশ এবং তাঁদের জন্য নির্ধারিত সরকারি সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবা ঠিকমতো পৌঁছচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে মুর্শিদাবাদ জেলায় পরিদর্শনে গেলেন শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। মঙ্গলবার জেলার একাধিক এলাকা ঘুরে শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি।
পরিদর্শনের শুরুতেই ধুলিয়ানের তারাপুরে বিড়ি শ্রমিকদের জন্য নির্মিত সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন শ্রমমন্ত্রী। হাসপাতালের বর্তমান জরাজীর্ণ ও বেহাল অবস্থা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এই স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দ্রুত পুনর্গঠন, আমূল সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে বলে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেন অর্জুন সিং।
এরপর ঔরঙ্গাবাদের নিমতিতায় বিড়ি শ্রমিকদের বসতিতে পৌঁছে সরাসরি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ঘরে ঘরে গিয়ে বিড়ি তৈরি করে একটি পরিবার কতটা আয় করছে, কাজের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন শ্রমমন্ত্রী।
বিড়ি শ্রমিক মহিলাদের একাংশ অভিযোগ করেন, তাঁরা ১,০০০টি বিড়ি তৈরি করার পর মহাজনরা পাতা ছেঁড়া বা রং খারাপের মতো বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি বিড়ি বাদ দিয়ে দেন। এর ফলে তাঁদের দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় বলে অভিযোগ।
শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, প্রতি সপ্তাহে মজুরি থেকে পিএফ বাবদ টাকা কেটে নেওয়া হলেও সেই টাকার যথাযথ রসিদ বা সরকারি নথি তাঁদের দেওয়া হয় না। একইসঙ্গে, অত্যন্ত ছোট জায়গায় পরিবারের একাধিক সদস্যকে নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে বলেও জানান স্থানীয়রা।
সরকারি আবাসন কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ার কারণে তাঁদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। মুর্শিদাবাদ সফরে শ্রমিকদের এই অভিযোগ ও সমস্যাগুলি সরাসরি শোনার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী।




















