কলকাতা: নিউ মার্কেটের মির্জা গালিফ স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর তদন্তে উঠে এসেছে কলকাতা পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত একাধিক তথ্য। জানা গিয়েছে, যে ভবনে আগুন লেগেছিল, সেই বিল্ডিংয়েই মোট ৪০টি ট্রেড লাইসেন্সের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ লাইসেন্সই তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের সময় দেওয়া হয়েছিল।
একটি ভবনে এতগুলি ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে কি না, তা যথাযথভাবে যাচাই না করেই ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। নিউ মার্কেটের ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর পুরসভার লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখ্য, ফিরহাদ হাকিম কলকাতা পুরসভার মেয়র থাকাকালীন ২০২১ সাল থেকে ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে চালু করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীরা অনলাইনে হলফনামা জমা দেওয়ার পর নতুন ট্রেড লাইসেন্স পেতে পারেন। লাইসেন্স নবীকরণের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি রয়েছে। তবে নবীকরণের আগে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর সমস্ত বকেয়া মেটানো বাধ্যতামূলক।
এর আগে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া ছিল আলাদা। কোনও ব্যবসার জন্য আবেদন জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের লাইসেন্স বিভাগের আধিকারিকরা সরেজমিনে পরিদর্শনে যেতেন। আবেদনে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখা হত। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হত। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার পরই ট্রেড লাইসেন্সের অনুমোদন দেওয়া হত।
নিউ মার্কেটের ওই ভবনে একসঙ্গে এতগুলি ট্রেড লাইসেন্স কীভাবে অনুমোদিত হয়েছিল এবং লাইসেন্স দেওয়ার সময় পরিকাঠামোগত বিষয়গুলি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে সেই প্রশ্নগুলিও গুরুত্ব পাচ্ছে।




















