“জ্যোতি বসু যে দেহটা দান করেছিলেন, মেডিক্যাল সায়েন্সের কোনও কাজে আসেনি” — স্বাস্থ্যমন্ত্রী

“জ্যোতি বসু যে দেহটা দান করেছিলেন, মেডিক্যাল সায়েন্সের কোনও কাজে আসেনি” — স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর দেহদান প্রসঙ্গে মন্তব্য করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার শঙ্কর নেত্রালয়ের একটি চক্ষুদান সংক্রান্ত সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, জ্যোতি বসু যে দেহ দান করেছিলেন, তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাজে লাগেনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, “অনেক শ্রদ্ধার সঙ্গে বলছি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু যে দেহটা দান করেছিলেন, মেডিক্যাল সায়েন্সের কোনও কাজে আসেনি তা। কাজে আসত যদি তিনি লাইভ ডোনেশন করতেন।” একইসঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে দেহদান না করার আবেদন জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় চিকিৎসক হওয়ায় প্রযুক্তিগত বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের উত্তর চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই দিতে পারবেন। তাঁর মতে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বার্থে দেহদানের পিছনে যে মানসিকতা প্রয়োজন, তা জ্যোতি বসুর মধ্যে ছিল এবং তাঁর সিদ্ধান্ত বহু মানুষকে দেহদানে উৎসাহিত করেছিল।

লাইভ ডোনেশন ও দেহদানের মধ্যে মূল পার্থক্য রয়েছে। ব্রেন ডেথের ক্ষেত্রে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে হৃদ্‌যন্ত্র সচল থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কিডনি, লিভার বা হৃদ্‌যন্ত্রের মতো অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য নেওয়া সম্ভব। অন্যদিকে শ্বাসপ্রশ্বাস ও রক্তসঞ্চালন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে সেটিকে ক্লিনিক্যাল ডেথ বলা হয়। সেই অবস্থায় অঙ্গ প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়।

মৃত্যুর পর দেহদান মূলত চিকিৎসাশিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়। মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগে ডাক্তারি পড়ুয়ারা দেহের অভ্যন্তরীণ গঠন এবং বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পড়াশোনা করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্যোতি বসু ব্রেন ডেথ অবস্থায় অঙ্গদান করলে তা প্রতিস্থাপনের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হত।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top