রাজ্য – নয়ডার সেক্টর ৮২-র একটি বহুতল আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যসচিব রাকেশ মেহতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, মানসিক ও শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন ৭০ পেরোনো এই প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত এই আমলা নয়ডার ওই আবাসনে একাই থাকতেন। তাঁর স্ত্রী সুমন্তী মেহতা সেই সময় দেরাদুনে ছেলের কাছে ছিলেন। স্বামীকে বারবার ফোন করেও যোগাযোগ না হওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে খবর দেন। এরপর নয়ডা ফেজ-২ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে, ফ্ল্যাটের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পুলিশ তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং লোধি রোডের শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে নিজের শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার কথা উল্লেখ করে চরম পদক্ষেপের ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। তবে নোটটি সত্যিই রাকেশ মেহতার লেখা কি না, তা নিশ্চিত করতে ফরেন্সিক পরীক্ষার সাহায্য নিচ্ছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে।
শীলা দীক্ষিত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দিল্লির মুখ্যসচিবের দায়িত্বে ছিলেন রাকেশ মেহতা। দিল্লির গণপরিবহণ ব্যবস্থায় লো-ফ্লোর বাস চালু এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়। দিল্লি পুরনিগমেও শীর্ষ পদে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। দীর্ঘ ও বর্ণময় প্রশাসনিক জীবনের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে রাজধানী ও সংলগ্ন প্রশাসনিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




















