কলকাতা – চেতলায় গণেশপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে আসন্ন দুর্গাপুজো নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর আচার-অনুষ্ঠান পঞ্জিকা মেনে এবং মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে করার উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর বার্তা, শারদোৎসবে আনন্দ, গানবাজনা হতেই পারে, কিন্তু পুজোর ধর্মীয় রীতি ও পরম্পরার সঙ্গে কোনও আপস করা যাবে না। দেবীপক্ষের সূচনা হওয়ার আগে কোনও দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করা যাবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, মায়ের বোধন, কলাবউ স্নান, অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি, নবমীর আরতি, দশমীর নিরঞ্জন, দধিকর্মা ও সিঁদুরখেলা—প্রতিটি আচার নির্ধারিত নিয়ম মেনেই করতে হবে। দুর্গাপুজোর থিম, প্রতিমা কিংবা মণ্ডপসজ্জায় এমন কোনও বিষয় রাখা যাবে না, যা বাংলার দুর্গাপুজোর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আঘাত করে। বাঙালির সাত্ত্বিকতা ও দীর্ঘদিনের পরম্পরা বজায় রাখার উপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
বিসর্জনের ক্ষেত্রেও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপুজো। তার আগেই দুর্গাপুজোর সমস্ত বিসর্জন শেষ করতে হবে। পাশাপাশি দুর্গাপুজো ও বিসর্জনে ডিজে বাজানোর উপর নিষেধাজ্ঞার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। মহাষ্টমীর দিন রাজ্যজুড়ে মদের দোকান বন্ধ থাকবে এবং বারেও মদ বিক্রি করা যাবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুজোর সময় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতেও একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। জাতীয় সড়ক বন্ধ করে পুজো করা যাবে না। কলকাতার ডিএল খান রোড, রেড রোড, জওহরলাল নেহেরু রোড, স্ট্র্যান্ড রোড, খিদিরপুর রোড, বর্ধমান রোড, হসপিটাল রোড, ক্যাথিড্রাল রোড, নির্মল চন্দ্র স্ট্রিট, লেনিন সরণি, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, পার্ক সার্কাস কানেক্টর এবং প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড—এই ১৩টি রাস্তা খোলা রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ পুজোর উৎসবের পাশাপাশি ধর্মীয় পরম্পরা, বিসর্জনের সময়সীমা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত—তিন দিকেই এবার কড়া নজর রাখার বার্তা দিল রাজ্য সরকার।




















