কলকাতা: কোথাও জলাজমি বুজিয়ে নির্মাণ, কোথাও আবার ওয়াকফের সম্পত্তির উপর বেআইনিভাবে তৈরি হয়েছে বহুতল। পূর্ব কলকাতার তপসিয়া এলাকায় এমনই অন্তত ছ’টি বেআইনি নির্মাণের পিছনে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খানের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার তপসিয়া এলাকার ছ’টি জায়গায় সরেজমিনে তদন্ত শুরু করল রাজ্যের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দমন কমিশন।
তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে থাকা পুলিশকর্তা কে জয়রামন জানান, কীভাবে এই নির্মাণগুলি গড়ে উঠল, তা খতিয়ে দেখতেই তদন্ত শুরু হয়েছে। এ দিন সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলি পরিদর্শন করেন কমিশনের আধিকারিকরা। পরবর্তী পর্যায়ে কলকাতা পুরসভা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হবে। সেই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখেই তদন্তের রিপোর্ট জমা দেবে কমিশন।
কমিশন সূত্রে খবর, তপসিয়া এলাকায় একের পর এক বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ তাদের কাছে জমা পড়েছিল। কোথাও ওয়াকফের সম্পত্তি দখল করে নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে, কোথাও আবার সরকারি জমি দখল করে কিংবা জলাজমি ভরাট করে বহুতল তৈরির অভিযোগ রয়েছে।
ঋত্বিক ঘটক স্টেশনের কাছেও দু’টি টাওয়ার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সেগুলি বর্তমানে অর্ধনির্মিত অবস্থায় রয়েছে। নির্মাণগুলি বেআইনি বলে অভিযোগ ওঠার পর কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে অভিযোগ শুধু নির্মাণকাজ বন্ধ থাকা বহুতলগুলিকে ঘিরেই নয়। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ ওঠা কয়েকটি আবাসনের ফ্ল্যাট ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। সেখানে বসবাসও করছেন একাধিক পরিবার। তদন্তের সময় কমিশনের আধিকারিকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন।
এখন কমিশনের তদন্ত রিপোর্টের দিকেই নজর। রিপোর্ট জমা পড়ার পর বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশও পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করতে পারে। তবে প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।




















