রাজ্য – আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস (International Yoga Day 2026) উপলক্ষে এবার এক ঐতিহাসিক আয়োজনের সাক্ষী হতে চলেছে কলকাতা। গঙ্গার তীরে বিশাল যোগ সমাবেশের মাধ্যমে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তোলার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। এই মেগা ইভেন্টের মাধ্যমে যোগ ব্যায়ামের সর্ববৃহৎ জমায়েতের রেকর্ড গড়ে অন্ধ্রপ্রদেশের পুরনো নজিরকে ছাপিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
এই কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত করতে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় নবান্ন সভাঘরে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই বৈঠকে রাজ্যের একাধিক শীর্ষ আমলা ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মূলত কলকাতায় যোগ দিবসের বৃহৎ শিবির আয়োজন, অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে কেন্দ্র করে যোগ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে রাজ্যের যুব ক্লাবগুলিকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যারা স্থানীয়ভাবে অংশগ্রহণকারীদের সংগঠিত করবে। হাজার হাজার তরুণ-তরুণী ও সাধারণ মানুষকে এই উদ্যোগে যুক্ত করার মাধ্যমে একটি গণ-আন্দোলনের রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্কুল স্তরেও যোগ দিবসকে ঘিরে বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী ৭ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন থিমে যোগ কর্মসূচি চলছে। কোথাও স্কুলভিত্তিক যোগ, কোথাও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, আবার কোথাও উপজাতি ও চা-বাগান এলাকায় বিশেষ যোগ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।
এছাড়া অংশগ্রহণ বাড়াতে ১৪ জুন একটি টোল-ফ্রি নম্বরে মিসড কলের মাধ্যমে নাম নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৫ জুন রাজ্যের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও পর্যটনস্থল যেমন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, সুন্দরবন, কোচবিহার ও মুর্শিদাবাদে বিশেষ যোগ সেশন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ১৯ জুন ‘রান ফর যোগা’ কর্মসূচির মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো হবে।
মূল অনুষ্ঠান ২১ জুন গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হবে বলে জানা গেছে। হাজার হাজার মানুষের একযোগে যোগাসন প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে এই আয়োজনকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে। আয়ুষ বিভাগের খাদ্য ও স্বাস্থ্য নির্দেশিকা অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হবে।
এই বৃহৎ কর্মসূচিকে সফল করতে রেল, মেট্রো, পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স এবং একাধিক কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। লক্ষ্য একটাই—লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণে একটি সুশৃঙ্খল ও বিশ্বমানের যোগ অনুষ্ঠান আয়োজন।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে ঘিরে কলকাতার এই উদ্যোগ কেবল একটি স্বাস্থ্য সচেতনতার অনুষ্ঠান নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে একটি রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও সামাজিক আয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।




















