সই জাল কাণ্ডে কালীঘাটে সিআইডির অভিযান, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে

সই জাল কাণ্ডে কালীঘাটে সিআইডির অভিযান, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার চর্চিত ‘সই জাল’ কাণ্ডের তদন্তে মঙ্গলবার বিকেলে এক অভাবনীয় ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটল। তদন্তে নেমে রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID) সরাসরি হানা দেয় কলকাতার কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে। এই অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা তৈরি হয়।

পরিস্থিতি দ্রুত সংবেদনশীল হয়ে ওঠায় কালীঘাট ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল শিবির এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে, যদিও প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি তদন্তের অংশ বলেই দাবি করা হচ্ছে।

এই সিআইডি অভিযানের পর সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে এডিজি সিআইডি সুপ্রতিম সরকারের নাম। তাঁর নেতৃত্বেই তদন্তকারী দল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছায় বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে। ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিশ্লেষণ।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশে একাধিক শীর্ষস্তরের রদবদল হয়েছিল। সেই সময় মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজি-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে সরানো হয়। সেই তালিকায় কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারও ছিলেন, যিনি পরে এডিজি সিআইডি পদে নিযুক্ত হন।

পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে রাজ্যে নতুন প্রশাসনিক সমীকরণ তৈরি হলেও সুপ্রতিম সরকার সিআইডির শীর্ষ পদেই থেকে যান। তাঁর নেতৃত্বাধীন সংস্থার এই অভিযানকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তরে অতীতে যে রদবদল হয়েছিল, তা রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সুপ্রতিম সরকারের কলকাতা পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ ও পরবর্তী সময়ে সিআইডির দায়িত্ব গ্রহণ—সবকিছুই এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এই ঘটনার পর বিরোধী শিবির তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

সব মিলিয়ে কালীঘাটে সিআইডির এই অভিযান রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে এবং প্রশাসনিক স্তরেও তৈরি করেছে নতুন চাপ ও বিতর্ক।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top