টলিউডে কি আসছে নতুন ক্ষমতার কাঠামো? কনফেডারেশন জল্পনায় সরগরম টলিগঞ্জ

টলিউডে কি আসছে নতুন ক্ষমতার কাঠামো? কনফেডারেশন জল্পনায় সরগরম টলিগঞ্জ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



বিনোদন – টলিউডের অন্দরে গত কয়েক মাস ধরে চলতে থাকা অস্থিরতা, মতভেদ এবং সাংগঠনিক টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি প্রশ্ন—বাংলা বিনোদন জগতের ক্ষমতার কাঠামো কি বদলাতে চলেছে? সম্প্রতি নবান্নে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং তার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক পোস্টারকে ঘিরে সেই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।

গত ৮ জুন নবান্নের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরে টলিগঞ্জ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন টলিগঞ্জ বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার বিধায়ক—রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং পাপিয়া অধিকারী। তাঁদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রধান সচিব শান্তনু বসু এবং প্রশাসনের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক।

দীর্ঘদিন ধরেই টলিউডের কর্মপরিবেশ নিয়ে শিল্পী, কলাকুশলী, টেকনিশিয়ান এবং প্রযোজকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষের কথা সামনে আসছিল। অভিযোগ ছিল, ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ধীরে ধীরে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার উপর আধিপত্য বিস্তার করেছে। কাজের সুযোগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সংগঠন পরিচালনা নিয়ে একাধিক প্রশ্নও উঠছিল।

এই পরিস্থিতিতে শিল্পের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই কারণেই নবান্নের বৈঠককে ঘিরে আগ্রহ ছিল যথেষ্ট। বৈঠক শেষে একটি ছবি প্রকাশ্যে আসে এবং তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে একাধিক পোস্টার। সেই পোস্টারগুলিতে দাবি করা হয়, টলিগঞ্জে নতুন কনফেডারেশন গঠনের পথে অগ্রগতি হয়েছে এবং শিল্পী, কলাকুশলী, টেকনিশিয়ান ও প্রযোজকদের এক ছাতার তলায় আনার উদ্যোগে নাকি সর্বসম্মত সমর্থন মিলেছে।

পোস্টারগুলিতে পাপিয়া অধিকারীর ভূমিকাকেও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। দাবি করা হয়, বাংলা চলচ্চিত্র ও বিনোদন শিল্পে আরও স্বচ্ছ, সংগঠিত এবং কর্মমুখী পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি হতে চলেছে। এই পোস্টারগুলি শুধু বিভিন্ন টলিগঞ্জ-কেন্দ্রিক সামাজিক মাধ্যম পেজেই নয়, কয়েকজন পরিচিত শিল্পী এবং সমর্থকদের প্রোফাইলেও দেখা যায়।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জুন টেকনিশিয়ান স্টুডিও প্রাঙ্গণে এক সভা থেকে পাপিয়া অধিকারী পূর্ব ভারতের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতের জন্য একটি নতুন সংগঠন—Eastern India Motion Pictures & Cultural Confederation (EIMPCC)-এর ধারণা সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বাংলা বিনোদন শিল্পকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং দক্ষ করে তুলতে নতুন কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।

সেই সভায় তিনি আরও বলেন, একটি শুটিং ইউনিটে কতজন কর্মী থাকবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র প্রযোজক এবং এক্সিকিউটিভ প্রযোজকের হওয়া উচিত। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নানা অলিখিত নিয়ম, চাপ এবং প্রভাবের বিরুদ্ধেও তিনি সরব হন।

তবে এই প্রস্তাব সামনে আসার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। বিশেষ করে বহু গিল্ডকে একত্রিত করে সীমিত সংখ্যক গিল্ডের ধারণা সামনে আসায় টেকনিশিয়ানদের একাংশ আপত্তি জানায়। পরবর্তী সময়ে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে একাধিক বৈঠক, প্রতিবাদ এবং উত্তেজনার ঘটনাও সামনে আসে। এমনকি কিছু সভাকে ঘিরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগও ওঠে।

এদিকে ভাইরাল পোস্টারগুলিতে কনফেডারেশন গঠন নিয়ে বড় বড় দাবি করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে পাপিয়া অধিকারী সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা না করে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, বর্তমানে বিদ্যমান ফেডারেশন বা গিল্ড কাঠামো তুলে দেওয়ার কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। বরং বর্তমান সংগঠনগুলিই বহাল থাকার সম্ভাবনা বেশি বলে জানা যাচ্ছে। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টার এবং বাস্তব প্রশাসনিক অবস্থানের মধ্যে কতটা মিল রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

টলিউডের ইতিহাসে সাংগঠনিক পরিবর্তন, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং শিল্প সংস্কারের দাবি নতুন নয়। তবে এবার যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা শুধুমাত্র একটি সংগঠনকে ঘিরে নয়; বরং বাংলা বিনোদন শিল্পের ভবিষ্যৎ পরিচালনা কাঠামো নিয়েই। নতুন কনফেডারেশন কি সত্যিই বাস্তবায়িত হবে, নাকি তা এখনও শুধুই প্রস্তাবের স্তরে রয়েছে—সেই উত্তর সময়ই দেবে। তবে এটুকু স্পষ্ট, টলিউডের অন্দরে পরিবর্তনের যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা এখনই থামার নয়।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top