রাজ্য – রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির আবহে দলবদল এবং বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, দলের একাংশ নেতা গোপনে বা প্রকাশ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং কার্যত বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থানকেই সমর্থন করছেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, যাঁরা সম্প্রতি দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান এখন আর তৃণমূলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাঁর বক্তব্য, এই নেতারা কার্যত বিজেপির আদর্শ ও নেতৃত্বের কাছাকাছি চলে গিয়েছেন এবং সেই বাস্তবতা জনগণের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দলের অভ্যন্তরে থেকে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া নেতাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যদি কারও সাহস থাকে, তবে তিনি যেন নিজের নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের মুখোমুখি দাঁড়ান। বুথ স্তরের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন তিনি।
সাংবাদিক বৈঠকে দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও বক্তব্য রাখেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু নেতা শুধুমাত্র ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার জন্য রাজনৈতিক অবস্থান বদল করছেন। তাঁদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলে তা খোলাখুলিভাবে নেওয়া উচিত এবং এরপর নিজেদের পরিচয়ের সঙ্গে তৃণমূলের নাম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, নির্বাচনের পর যখন বহু কর্মী ও সমর্থক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন, তখন দলের একাংশ প্রথম সারির নেতা তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। এই অভিযোগ তুলে তিনি কয়েকজন নেতার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, কিছু নেতা নিজেদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অবস্থান সুরক্ষিত রাখার দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, অথচ সংগঠনের স্বার্থে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করেননি। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।
বক্তব্যের শেষাংশে তৃণমূলের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক স্লোগানের উল্লেখ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা, সম্পদ বা প্রশাসনিক প্রভাবের চেয়ে মানুষের সমর্থনই সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর দাবি, দল এখনও সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও সমর্থনের উপর নির্ভর করেই এগিয়ে চলেছে।
এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ, বিদ্রোহী শিবিরের ভবিষ্যৎ অবস্থান এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।


















