কলকাতা – মোষের মাংসের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন সমস্যার মুখে পড়েছে আলিপুর চিড়িয়াখানা। কলকাতা পুরসভার কসাইখানার লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ না হওয়ায় মোষের মাংস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাঘ, সিংহ-সহ মাংসাশী প্রাণীদের খাদ্যতালিকায় আপাতত পাঁঠার মাংস রাখতে হচ্ছে। এতে চিড়িয়াখানার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বাজারে মাংসের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি পাঁঠার মাংসের উপর নির্ভরতা বাড়ায় খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থাগুলিও মূল্যবৃদ্ধির দাবি তুলেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ অরণ্য ভবনে চিড়িয়াখানার খাদ্য সরবরাহকারী ভেন্ডরদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, বৈঠকে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত আর্থিক চাপের বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আনেন।
বনমন্ত্রী জানান, পুরসভার কসাইখানার লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ না হওয়ায় সরবরাহকারীরা মোষ জবাই করাতে পারছেন না। সেই কারণে আপাতত সমপরিমাণ পাঁঠার মাংস দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, লাইসেন্স সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য কলকাতা পুরসভার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সমস্যা মিটে না যাওয়া পর্যন্ত মাংসাশী প্রাণীদের পাতে পাঁঠার মাংসই থাকবে।
চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুর চিড়িয়াখানায় বছরে প্রায় ৫১ হাজার কেজি মোষের মাংসের প্রয়োজন হয়। দরপত্র অনুযায়ী, হাড়ছাড়া মোষের মাংস প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা এবং হাড়-সহ মাংস প্রতি কেজি ২৭০ টাকায় সরবরাহ করা হয়। এছাড়া বছরে প্রায় ২,৮০০ কেজি কিমারও প্রয়োজন হয়।
প্রতি বছর দরপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থাকে পশুপাখিদের খাবার সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আলাদা আলাদা সংস্থা পাখি, সরীসৃপ, হাতি, গন্ডার, জিরাফ এবং মাংসাশী প্রাণীদের খাবার সরবরাহ করে থাকে। মাংসাশী প্রাণীদের জন্য নির্দিষ্ট সংস্থাগুলিই মাংস সরবরাহ করে এবং সাধারণত এক সংস্থা একাধিক ধরনের মাংস সরবরাহ করে না।




















