দিল্লী – সামাজিক কর্মী সোনম ওয়াংচুককে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। রবিবার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসার পরিবর্তে সোনমকে কার্যত আটকে রাখা হয়েছে।
গীতাঞ্জলির দাবি, টানা ২১ দিন অনশনের পর সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার দিল্লি পুলিশ তাঁকে যন্তর মন্তর থেকে জোর করে তুলে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না বলেই অভিযোগ তাঁর। পরিবারের অনুরোধ সত্ত্বেও সোনমকে পছন্দের কোনও বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন তিনি।
দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদনে গীতাঞ্জলি জানান, সোনম যে ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন, তার বাইরে প্রায় ৩০ জন পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। গোটা হাসপাতাল চত্বরে শতাধিক পুলিশকর্মী থাকায় পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এটি চিকিৎসা নয়, বরং বেআইনিভাবে আটকে রাখার সামিল।
উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, সরকারি নিয়োগ ও পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘ অনশনের জেরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা মাল্টি-অর্গ্যান ফেলিওরের আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এরপর সোনম ওয়াংচুকের পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং অনশন ভাঙানোর দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার শুনানিতে আদালত কেন্দ্রকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণের পরই দিল্লি পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে সেই পদক্ষেপের পরও চিকিৎসা ও হাসপাতাল পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।



















