উত্তর চব্বিশ পরগনা – দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে ভারতীয় জনতা পার্টি। এই নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত মুখ হয়ে উঠেছেন আরজি কর নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ, যিনি পানিহাটি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন। রাজনীতিতে সদ্য পদার্পণ করলেও তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট—দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই।
জয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজের এই সাফল্য উৎসর্গ করেন নরেন্দ্র মোদী-কে। তিনি বলেন, বাংলায় বেকারত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েই তিনি নির্বাচনে নেমেছিলেন। পাশাপাশি পানিহাটি এলাকাকে ‘থ্রেট কালচার’ এবং ভয়-দুর্নীতির পরিবেশ থেকে মুক্ত করার কথাও জানান।
বিধানসভায় গিয়ে প্রথম কাজ কী হবে—এই প্রশ্নের উত্তরে রত্না দেবনাথ স্পষ্ট জানান, তাঁর মেয়ের মৃত্যুর পেছনে যে দুর্নীতি রয়েছে, বিশেষ করে স্বাস্থ্য দফতরের ভিতরে, তা খতিয়ে দেখাই হবে তাঁর প্রথম লক্ষ্য। উল্লেখ্য, আরজি করের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, আর সেই প্রেক্ষিতেই রাজনীতিতে আসেন তিনি।
এদিকে ভবানীপুর কেন্দ্রেও বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। এই কেন্দ্র, যা এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী-র কাছে তিনি পরাজিত হয়েছেন। এই প্রসঙ্গে রত্না দেবনাথ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আইনি শাস্তির দাবি তুলেছেন।
রাজনীতিতে আসা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। প্রথমদিকে তিনি এবং তাঁর পরিবার সক্রিয় রাজনীতিতে আসতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। তবে ভোট ঘোষণার পর বিজেপির প্রার্থী তালিকায় তাঁর নাম উঠে আসায় নতুন জল্পনা শুরু হয়। প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রচারের কেন্দ্রে ছিল আরজি করের ধর্ষণ-খুনের ঘটনা এবং মেয়ের জন্য বিচার পাওয়ার দাবি।
পানিহাটি কেন্দ্রে তিনি পরাজিত করেছেন তীর্থঙ্কর ঘোষ এবং বাম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত-কে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রত্না দেবনাথ।
সবশেষে তিনি জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের থেকেও একজন মা হিসেবেই থাকতে চান তিনি। মেয়ের নাম প্রকাশ্যে আনতে না পারলেও ‘ডক্টর দেবনাথের মা’ হিসেবেই নিজের পরিচয় বহন করতে চান বলে আবেগঘন বার্তা দেন তিনি।




















