রাজস্থান – মহারাষ্ট্র সরকারের জনপ্রিয় আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ‘লাড়কি বহিন যোজনা’কে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ মহিলার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আপাতত নতুন করে ই-কেওয়াইসি করার সময়সীমা বাড়ানো বা নতুন সুবিধাভোগী যুক্ত করার কোনও পরিকল্পনা নেই।
মহারাষ্ট্রে মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করতে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। এর আওতায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। একসময় এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২.৪৬ কোটি। তবে নথি যাচাই ও ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়ার পর বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৬৬ কোটিতে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পে অযোগ্য সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে ব্যাপক নথি যাচাই অভিযান চালানো হয়। সেই সময় ই-কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাঁরা ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করতে পারেননি অথবা যাঁদের নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানিয়েছেন, ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তাই নতুন করে সময়সীমা বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। পাশাপাশি নতুন কোনও আবেদন গ্রহণ বা নতুন সুবিধাভোগী অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও বর্তমানে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, বাদ পড়া অধিকাংশ আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ভুল নথি, অসম্পূর্ণ তথ্য বা আয়ের সীমা সংক্রান্ত অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত আয়ের সীমার বেশি আয় থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই কারণেই যাচাই প্রক্রিয়ার পর বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মহারাষ্ট্রের এই ঘটনা ঘিরে পশ্চিমবঙ্গেও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর মহিলাদের আর্থিক সহায়তামূলক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পরিবর্তে চালু হওয়া ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ আবেদনকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। নতুন প্রকল্পে আবেদন করতে ১৩ পাতার একটি বিস্তারিত ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে, যেখানে পরিবারের আয়সহ একাধিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।




















