রাজ্য – দলের নাম বা পতাকা ব্যবহার করে কোনও ধরনের দখলদারি, বেআইনি কর্মকাণ্ড কিংবা অসামাজিক কার্যকলাপে মদত দেওয়া হলে কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রবিবার হাবড়ার প্রফুল্লনগরে এক দলীয় নেত্রীর পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, দলের কোনও বিধায়ক বা সাংসদের নামও যদি এ ধরনের ঘটনায় জড়ায়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মূল বার্তা হল বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং শান্তিপূর্ণ ও হিংসামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিজেপি এগোবে বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখলদারি বা বেআইনি কার্যকলাপ চালানোর সংস্কৃতির কোনও জায়গা দলে নেই।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অস্বাভাবিক সংখ্যক পুলিশ বাহিনী ব্যবহার করা হতো। তাঁর দাবি, বহু পুলিশ কর্মী এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে শমীক বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না।
সোনারপুরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগ নিয়েও কটাক্ষ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই এবং বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল।
এদিন তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছেন। তাঁর বক্তব্য, এদের অনেকেই অতীতে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির নাম ব্যবহার করে বালিখাদান, পাথরখাদান, সীমান্তবর্তী এলাকা এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সরকারের শপথগ্রহণের পরই বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে। দলের কোনও জনপ্রতিনিধি যদি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন, তবে তা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















