রাজ্য – রবিবার সকালে কামারহাটিতে তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তাঁর সঙ্গে যুক্ত একটি ভবনে পুলিশের তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে গোটা ঘটনায় বিন্দুমাত্র বিচলিত নন বলে দাবি করেছেন কামারহাটির এই বিধায়ক। বরং স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে নিয়েই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি।
পুলিশি তল্লাশির খবর প্রকাশ্যে আসার পর কালীঘাটে এক দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মদন মিত্র। তিনি দাবি করেন, যেই জায়গায় পুলিশ গিয়েছে সেটি তাঁর ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক অফিস নয়, বরং একটি মহিলা কো-অপারেটিভের অফিস। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, তদন্ত হলে হোক, তাতে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।
একইসঙ্গে ‘গুড্ডু’ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়ের কথা স্বীকার করলেও এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। মদন মিত্রের বক্তব্য, পুলিশি তদন্ত দিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দিয়েও তদন্ত করানো যেতে পারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুরে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) দ্যুতিমান ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি বড় পুলিশ বাহিনী অভিযানে অংশ নেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখা যায় ভবনটি তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে কেউ উপস্থিত নেই। পরে দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযান শেষে পুনরায় ভবনটি তালাবদ্ধ করে পুলিশ সেখান থেকে বেরিয়ে যায়।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, ‘উদয় ভিলা’ নামে পরিচিত ওই ভবনটিকে ঘিরেই মূল তদন্ত চলছে। অভিযোগ, ভবনটি যে জমির উপর নির্মিত হয়েছে, সেটি একটি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া সেখানে কীভাবে নির্মাণকাজ হয়েছে, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তদন্তে জমির মালিকানা, নির্মাণের বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এখন নজর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং প্রশাসনের অবস্থানের দিকে।




















