উত্তর চব্বিশ পরগনা – উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে তাপস মণ্ডলকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের জমি দখল, আর্থিক দুর্নীতি এবং প্রভাব খাটানোর একাধিক অভিযোগ তুলে গ্রেফতারি ও কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। সম্প্রতি তাঁর আত্মীয় সুশান্ত মণ্ডলকে গ্রেফতার করার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।
অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায়, বয়স্ক ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জমি বিভিন্ন উপায়ে দখল করে নিজের সম্পত্তি বাড়িয়েছেন তাপস মণ্ডল। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর সহযোগীদের মাধ্যমে একাধিক সম্পত্তি বেআইনিভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। সেচ দফতরের অভিযোগের ভিত্তিতে নদীর বাঁধ কাটার মামলায় হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ সুশান্ত মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে। তাঁকে স্যান্ডেলের বিল পঞ্চায়েত এলাকার আমবেড়িয়া থেকে আটক করা হয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সরকারি আবাসন প্রকল্পে ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী সময়ের একাধিক ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এলাকার একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেননি। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে সামনে এসে নিজেদের অভিযোগ জানাতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচিও শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাপস মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। তাঁর সম্পত্তির উৎস, জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হোক। যদি কোনও বেআইনি দখল বা অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্তদের সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, সুশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী দাবি করেছেন, তাঁর স্বামীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পরই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ।



















