রাজ্য – বাংলায় নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে সোমবার রাজভবনে তৈরি হল উৎসবের আবহ। সকাল ১১টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আর. এন. রবি নতুন মন্ত্রিসভার ৩৫ জন সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান। তবে এবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ভাষার বৈচিত্র্য। বাংলা ভাষার পাশাপাশি হিন্দি, ইংরেজি, নেপালি, সাঁওতালি এবং রাজবংশি ভাষাতেও শপথ নেন একাধিক মন্ত্রী।
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিজেদের মাতৃভাষায় শপথ নিয়ে বাংলার বহুসাংস্কৃতিক ও বহুভাষিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটান। বিভিন্ন ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও স্পষ্টভাবে উঠে আসে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
হিন্দি ভাষায় শপথ নেন ক্যাবিনেট মন্ত্রী অজয় কুমার পোদ্দার এবং প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। অন্যদিকে, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী রাজেশ মাহাত ইংরেজি ভাষায় শপথবাক্য পাঠ করেন। আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে সাঁওতালি ভাষায় শপথ নেন প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু এবং অমিয় কিস্কু।
উত্তরবঙ্গের সংস্কৃতি ও ভাষার প্রতিনিধিত্বও দেখা যায় এদিনের অনুষ্ঠানে। রাজবংশি ভাষায় শপথ নেন আনন্দময় বর্মণ। পাশাপাশি পাহাড়ের প্রতিনিধিত্ব করে নেপালি ভাষায় শপথবাক্য পাঠ করেন বিশাল লামা। তাঁদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
সকাল থেকেই রাজভবন চত্বরে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত কর্মী-সমর্থক, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল ভরে ওঠে। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথগ্রহণ প্রত্যক্ষ করতে সকাল থেকেই ভিড় জমতে শুরু করে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ৩৫ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি এবং জনজাতির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। বহুভাষিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান নতুন সরকারের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের দর্শনকেই সামনে নিয়ে এসেছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।




















