দেশ – ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সম্প্রতি লিপুলেখ-কালাপানি ইস্যুতে চিন ও ব্রিটেনকে আলোচনায় যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি দাবি করেছিলেন, ভারত যেমন নেপালের কিছু জমি দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ ওঠে, তেমনই নেপালও ভারতের কিছু জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এই মন্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতের তরফে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যা ভারত ও নেপাল নিজেদের মধ্যেই আলোচনা করে সমাধান করবে। এই বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার প্রশ্নই ওঠে না।
ভারতের বক্তব্য, দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নির্ধারণ ও সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলি নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। সেই কাঠামোর মধ্য দিয়েই বাকি বিষয়গুলির সমাধানের চেষ্টা চলছে। নয়াদিল্লির মতে, সীমান্ত সংক্রান্ত আলোচনা দুই দেশের সার্বভৌম বিষয় এবং বাইরের কোনও দেশকে যুক্ত করার প্রয়োজন নেই।
রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারত-নেপাল সীমান্তের প্রায় ৯৮ শতাংশ অংশ ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে কয়েকটি এলাকায় এখনও সীমান্ত নির্ধারণের কাজ বাকি রয়েছে। বিশেষ করে গণ্ডক নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে কিছু অঞ্চলে সীমান্ত নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও কিছু এলাকায় জমি দখল এবং নো ম্যানস ল্যান্ডে অনুপ্রবেশের অভিযোগও রয়েছে। এই সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য দুই দেশ যৌথভাবে মানচিত্রায়ণ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি নেপালের সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বালেন্দ্র শাহ বলেন, সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চললেও চিন এবং ব্রিটেনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাঁর মতে, ব্রিটিশ আমলে নির্ধারিত সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়গুলির কারণে ব্রিটেনেরও এই আলোচনায় ভূমিকা থাকতে পারে। এই মন্তব্যের পর নেপালের রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক শুরু হয়।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা এবং কালাপানি অঞ্চলকে উত্তরাখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে নেপালও ওই অঞ্চলগুলির উপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকার দাবি করে। ফলে এই সীমান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্ত অমীমাংসিত বিষয় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই মেটানো হবে। ফলে চিন বা ব্রিটেনকে আলোচনায় যুক্ত করার নেপালের প্রস্তাব কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি।
ভারত ও নেপালের দীর্ঘ ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই সীমান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানই এখন দুই দেশের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।




















