বিদেশ – হরমুজ প্রণালী ঘিরে আমেরিকা ও ইরানের উত্তেজনা এখনও অব্যাহত। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক তেল পরিবহণেও। গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে যান চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পশ্চিম এশিয়ার তেল উৎপাদক দেশগুলি এখন বিকল্প পথে রপ্তানি সচল রাখার চেষ্টা করছে।
‘ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স ডট কম’-এর তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তেল রপ্তানি যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রায় ফিরে এসেছে। দক্ষিণ ইরাকের রপ্তানি অবশ্য এখনও যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কম। তবে গত এপ্রিলের পরিস্থিতির তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে, কারণ সেই সময় রপ্তানি প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের মানচিত্রে ইরানের রপ্তানি কার্যত অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। গত ৬০ দিনে উপসাগর ও আরব সাগরের মধ্যবর্তী অবরুদ্ধ পথ পেরিয়ে ইরান থেকে এক ব্যারেল তেলও বাইরে যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ ও চলমান সংকটের মধ্যেও পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশ বিকল্প ব্যবস্থায় তেল পাঠানোর চেষ্টা করছে।
ওমান উপসাগরে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের পরিমাণও বেড়েছে। গত ১৪ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭১.৫ লক্ষ ব্যারেল তেল এভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি কয়েকটি আরব দেশ এমন তেলবাহী ট্যাঙ্কারও ব্যবহার করছে, যেগুলি GPS ট্র্যাকিং সিগন্যাল এড়িয়ে চলাচল করছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ তেল উৎপাদনও বর্তমানে মূলত দেশের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর্যায়েই রয়েছে।




















