রাজ্য – সই জাল কাণ্ডের তদন্তে মঙ্গলবার বিকেলে কলকাতার কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে সিআইডি (CID) পৌঁছনোর ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযানের সময় বাড়ির চত্বর ও আশপাশ এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয় বলে জানা যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে।
তৃণমূল শিবির এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, বিরোধীদের চাপের মুখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করেই তদন্তকারী সংস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রশাসনিক মহলের একাংশ বলছে, এটি চলমান তদন্তেরই অংশ।
এই ঘটনার আবহে আবারও সামনে এসেছে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ। সেই সময় নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী, যা রাজ্য রাজনীতিতে বড় মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপরই তাঁর কাঁথির শান্তিকুঞ্জ বাসভবনের সামনে সিআইডি পৌঁছে যাওয়ার ঘটনাও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছিল।
সূত্রের দাবি, ২০১৮ সালে তাঁর দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনার তদন্তে পরবর্তীতে নতুন করে সক্রিয় হয় সিআইডি। ভোট-পরবর্তী সময়ে এই তদন্তে একাধিকবার তৎপরতা দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি সৌমেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ত্রাণ সংক্রান্ত অভিযোগ এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েও সেই সময় রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়।
এইসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছিল যে, তদন্তের নামে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছিল, সবকিছুই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।
এদিন কালীঘাটে সিআইডি অভিযানের পর আবারও একই ধরনের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের আবহ তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গেলেও কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করা হলে তার ফল একদিন ভোগ করতেই হয়।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, এই তদন্ত কোন দিকে এগোবে এবং এর প্রভাব রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা পড়বে, তা নিয়েই এখন নজর সব পক্ষের।




















