দিল্লী – পরকীয়া সংক্রান্ত একটি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কোনও মামলায় পরকীয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে ফোনের কল রেকর্ড এবং হোটেলের বিল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে আদালতের নির্দেশে এই ধরনের নথি উপস্থাপন করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, প্রাপ্তবয়স্ক দু’জন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় সম্পর্কে জড়ালে তা ফৌজদারি অপরাধ নয়। অর্থাৎ, পরকীয়া আর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। তবে বিবাহবিচ্ছেদ, গার্হস্থ্য হিংসা বা বৈবাহিক বিরোধ সংক্রান্ত মামলায় পরকীয়ার অভিযোগ প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
সাম্প্রতিক মামলাটি রাজস্থানের জয়পুরের। ২০২২ সালে এক মহিলা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী পরকীয়ায় জড়িত এবং সেই অভিযোগের সমর্থনে স্বামীর ফোনের কল রেকর্ড ও হোটেলের বিল আদালতে উপস্থাপনের অনুমতি চান।
অভিযুক্ত স্বামী এই তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার বিরোধিতা করলেও, সুপ্রিম কোর্ট সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। বিচারপতি মনমোহন এবং বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ জানিয়েছে, মামলার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কল রেকর্ড ও হোটেলের বিল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে। তাই প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে এই তথ্য আদালতের সামনে উপস্থাপনে কোনও বাধা নেই।
এর আগে দিল্লি হাই কোর্টও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ করেছিল। হাই কোর্ট জানিয়েছিল, অভিযোগকারী নিজের দাবির সমর্থনে প্রমাণ উপস্থাপন করতে চাইলে তাতে আপত্তির কোনও কারণ নেই। সেই পর্যবেক্ষণকেই সমর্থন করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে আদালত কোথাও বলেনি যে শুধুমাত্র কল রেকর্ড বা হোটেল বিল থাকলেই পরকীয়া নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়ে যায়; এগুলি মামলার প্রাসঙ্গিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।




















