রাজ্য – ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনকে ঘিরে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ভোটের আগে বিজেপি এবং বামফ্রন্ট যখন জোরকদমে প্রচারে ব্যস্ত, তখন কার্যত প্রচারের ময়দানেই দেখা যাচ্ছে না তৃণমূল কংগ্রেসকে— এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আর সেই সুযোগেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করলেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী।
আগামী বৃহস্পতিবার ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার ছিল প্রচারের শেষ দিন। দিনভর বিজেপি এবং বামফ্রন্টের একাধিক কর্মসূচি নজরে এলেও তৃণমূলের উপস্থিতি ছিল অনেকটাই কম। বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোথাও প্রচারে দেখা যায়নি। পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা হওয়ার পর থেকেও তিনি ফলতা ইস্যুতে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। এমনকি সামাজিক মাধ্যমেও এই নির্বাচন নিয়ে তাঁর কোনও পোস্ট সামনে আসেনি।
এই পরিস্থিতিতেই এক্স হ্যান্ডেলে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন সুজন চক্রবর্তী। তাঁর কটাক্ষ, “ফলতায় বাম ও বিজেপি প্রচার করছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সভা করছেন। কিন্তু ৮ লাখ ভোটে জেতা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ কোথায়?” একই সঙ্গে তিনি আরও লেখেন, “হাজার পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে চলা সাংসদ কি এখন পিসির বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছেন?”
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে প্রায় ৮ লক্ষ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। সেই সময় ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়েও ব্যাপক প্রচার হয়েছিল। বিধানসভা ভোটের আগে জেলার সমস্ত আসনে তৃণমূলের জয়ের দাবিও করেছিলেন অভিষেক।
তবে এবারের নির্বাচনী ফল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনাসহ গোটা রাজ্যেই বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এরপর থেকেই রাজনৈতিকভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অনেকটাই আড়ালে চলে গিয়েছেন বলে দাবি বিরোধীদের।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় আসে। সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও করেন তিনি। কয়েকদিন আগেই শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “জাহাঙ্গিরের দায়িত্ব আমার উপর ছেড়ে দিন।” তার পরেই জাহাঙ্গিরের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফলতা ভোটের আগে তৃণমূলের এই নীরবতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। এখন নজর বৃহস্পতিবারের ভোট এবং তার ফলাফলের দিকে।




















