রাজ্য- রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সরকারি কর্মীদের সংবাদমাধ্যমে মতপ্রকাশ, তথ্য আদানপ্রদান এবং বিভিন্ন মিডিয়া কার্যকলাপে অংশগ্রহণের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করল নবান্ন। অল ইন্ডিয়া সার্ভিস, পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস (WBCS), পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস (WBPS)-সহ রাজ্যের সমস্ত স্তরের সরকারি কর্মীদের জন্য জারি করা হয়েছে কঠোর নির্দেশিকা।
মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের তরফে ১৯ মে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়। পরদিন অর্থাৎ ২০ মে পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস দফতরের পক্ষ থেকে তা সমস্ত সরকারি দফতর, জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং ডিজিপির কাছে পাঠিয়ে অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারের আগাম লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী কোনও স্পনসর্ড বা বেসরকারি সংস্থার প্রযোজিত অনুষ্ঠান, টক শো বা মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি অনুষ্ঠানটি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের অধীনে হলেও, যদি তার প্রযোজনা কোনও বেসরকারি সংস্থা করে, তাহলেও অনুমতি ছাড়া সেখানে যোগ দেওয়া যাবে না।
শুধু মিডিয়ায় উপস্থিতিই নয়, তথ্য বা নথি ফাঁসের ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নিয়েছে নবান্ন। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনও ফাইল, নথি বা তথ্য পৌঁছে দিতে পারবেন না। এই নিয়ম ভাঙলে কড়া বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একইসঙ্গে সরকারি কর্মীদের লেখালেখির উপরও জারি হয়েছে একাধিক নিষেধাজ্ঞা। কোনও সংবাদপত্র, সাময়িকী, ম্যাগাজিন বা অন্য কোনও প্রকাশনায় লেখক, সম্পাদক বা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত থাকা যাবে না। এমনকি রেডিও সম্প্রচার, পডকাস্ট বা সাধারণ পাঠক হিসেবে চিঠি ও নিবন্ধ লেখার ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সরকারের নীতি বা সিদ্ধান্তের সমালোচনা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছে নবান্ন। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনও নীতি, প্রকল্প বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনও সরকারি কর্মচারী প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে পারবেন না। সোশ্যাল মিডিয়া, টেলিভিশন, সংবাদপত্র বা অন্য কোনও প্ল্যাটফর্মে সরকারের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়াও এমন কোনও বক্তব্য বা প্রকাশনা করা যাবে না, যা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে অথবা অন্য কোনও রাজ্য বা বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সেই ধরনের মন্তব্য বা লেখা প্রকাশ করলেও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, ২০ মে এই সার্কুলার সমস্ত জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের কাছে পাঠিয়ে দ্রুত অধীনস্থ কর্মচারীদের মধ্যে প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের অন্দরে থাকা কোনও অংশ যাতে সরকারের গোপন তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করতে না পারে কিংবা প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ না করে, তার জন্যই এই কড়া বিধিনিষেধ আনা হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মত।
নির্দেশিকা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নবান্নের তরফে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।




















