খেলা – একেই বলে প্রকৃত অধিনায়ক। দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন পঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। ডু অর ডাই ম্যাচে দুরন্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে একাই দলকে জয়ের রাস্তা দেখালেন তিনি। তাঁর দুর্ধর্ষ ইনিংসের হাত ধরে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে সাত উইকেটে হারিয়ে চলতি আইপিএলের প্লে-অফের দৌড়ে টিকে রইল প্রীতি জিন্টার পঞ্জাব কিংস।
তবে এখনও প্লে-অফের ভাগ্য পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেই পঞ্জাবের। এবার শ্রেয়সদের তাকিয়ে থাকতে হবে রবিবারের কলকাতা বনাম দিল্লি এবং মুম্বই বনাম রাজস্থান ম্যাচের দিকে। রাজস্থান হারলে তারা প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে যাবে। অন্যদিকে কলকাতা জিতলে পঞ্জাবের সঙ্গে পয়েন্ট সমান হবে এবং তখন হিসাব কষা হবে দুই দলের নেট রানরেট নিয়ে। তাই শনিবারের ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না পঞ্জাবের সামনে, আর সেই কাজটাই নিখুঁতভাবে করে দেখাল শ্রেয়সের দল।
লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান লখনউকে। শুরুটা অবশ্য একেবারেই ভালো হয়নি ঋষভ পন্থদের। দ্বিতীয় ওভারেই আজমাতুল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে শূন্য রানে ফিরতে হয় ওপেনার আর্শিন কুলকার্নিকে। তিন নম্বরে নেমে ব্যর্থ হন নিকোলাস পুরানও। মার্কো জানসেনের বলে মাত্র ২ রান করেই সাজঘরে ফেরেন তিনি।
তবে এরপর জস ইংলিস এবং আয়ুষ বাদোনি পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে ফেরায় লখনউকে। বিশেষ করে বাদোনির আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতেই ৬৬ রান তুলে ফেলে দল। ১৮ বলে ৪৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন বাদোনি, যেখানে ছিল পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কা। যদিও যুজবেন্দ্র চহাল এসে তাঁর ইনিংসে ইতি টানেন।
এরপর জস ইংলিস ও অধিনায়ক ঋষভ পন্থ ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন। ইংলিস একাধিকবার জীবনদান পান এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২৮ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। ঋষভও কিছুটা ছন্দে ফিরছিলেন, কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। যুজবেন্দ্র চহালের বলে ২২ রান করে আউট হন তিনি।
শেষদিকে আব্দুল সামাদের ঝোড়ো ব্যাটিং লখনউকে বড় স্কোরের দিকে নিয়ে যায়। ২০ বলে ৩৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন সামাদ। অন্যদিকে জস ইংলিস ৪৪ বলে ৭২ রান করে আউট হন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান তোলে লখনউ। পঞ্জাবের হয়ে মার্কো জানসেন ও যুজবেন্দ্র চহাল দুটি করে উইকেট নেন।
১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পঞ্জাব কিংস। মহম্মদ সামির দুরন্ত বোলিংয়ে শূন্য রানে ফেরেন প্রিয়াংশ আর্য, আর কুপার কনোলিও বেশি দূর এগোতে পারেননি। কিন্তু তারপরই ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন শ্রেয়স আইয়ার। তাঁকে দারুণ সঙ্গ দেন প্রভসিমরন সিং। প্রভসিমরন খেলেন ৬৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস।
অন্যদিকে অধিনায়ক শ্রেয়স যেন একাই লড়াই চালিয়ে যান। মাত্র ৫১ বলে দুরন্ত সেঞ্চুরি পূর্ণ করে দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন তিনি। তাঁর বিধ্বংসী ইনিংসের সামনে অসহায় দেখায় লখনউয়ের বোলিং আক্রমণকে। মহম্মদ সামি ছাড়া এদিন আর কোনও বোলারই ছাপ ফেলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত সহজেই ম্যাচ জিতে নেয় পঞ্জাব কিংস।




















